চীনের বিখ্যাত ‘কুংফু’ মন্দিরের সাবেক প্রধান সন্ন্যাসীর ২৪ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বখ্যাত কুংফুর উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীনের শাওলিন মন্দিরের সাবেক প্রধান সন্ন্যাসী শি ইয়োংক্সিনকে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ গ্রহণের দায়ে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশের একটি আদালত রায়ে জানান, শি ইয়োংক্সিন ২০০৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মন্দিরের প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন।

আদালতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই সাবেক প্রধান সন্ন্যাসী নিজের পদের অপব্যবহার করে মন্দিরের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প থেকে অবৈধভাবে লাখ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নিয়েছেন এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, লিউ ইয়িংচেং নামে জন্ম নেওয়া এই সন্ন্যাসী আগেই নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন। শুক্রবার আদালতের রায় ঘোষণার পর তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।

পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত প্রায় ১,৫০০ বছরের পুরোনো এই শাওলিন মন্দিরটি প্রতি বছর চীন ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ভক্ত ও অনুসারীদের আকর্ষণ করে। শি ইয়োংক্সিন ১৯৯৯ সালে এই মন্দিরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করার কারণে তাকে রসিকতা করে ‘সিইও মঙ্ক’ বা ‘প্রধান নির্বাহী সন্ন্যাসী’ নামে ডাকা হতো। তার নেতৃত্বেই শাওলিন মন্দির চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশে মার্শাল আর্ট স্কুল খোলা শুরু করে এবং বিশ্বজুড়ে কুংফু প্রদর্শনের জন্য সন্ন্যাসীদের একটি ভ্রাম্যমাণ দল গঠন করে। তবে নানা বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগে গত বছর চীনের বৌদ্ধ সমিতি তাকে সন্ন্যাসীত্ব থেকে বহিষ্কার করে।

এর আগে, ২০১৫ সালেও শি ইয়োংক্সিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এবং একাধিক সন্তানের জনক হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও সে সময় তদন্তের পর তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। সে বছরই বিবিসি চাইনিজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, তার মধ্যে কোনো সমস্যা থাকলে তা অনেক আগেই সামনে চলে আসত।

পপ সংস্কৃতির জগতেও শাওলিন মন্দিরের বিশাল প্রভাব রয়েছে; ১৯৮২ সালে জেট লি অভিনীত বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘শাওলিন টেম্পল’ ছাড়াও আমেরিকান হিপ-হপ গ্রুপ উ-ট্যাং ক্ল্যানের গান এবং জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘মর্টাল কমব্যাট’-এর অনুপ্রেরণা ছিল এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights