চীনের সঙ্গে চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য ‘খুবই বিপজ্জনক’: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
চীনের সঙ্গে চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য ‘খুবই বিপজ্জনক’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন সময় তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীনের রাজধানী বেইজিং সফরে রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে স্টারমার ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একাধিক ‍চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্পের এমন প্রতিক্রিয়া এলো।

স্টারমারের চীন সফরকে কেন্দ্র করে হওয়া এসব চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো।

“এগুলো (চুক্তি) করা তাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক হচ্ছে,” স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে হওয়া একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন ট্রাম্প।

তার এই মন্তব্যের আগে বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শি-র সঙ্গে বৈঠকের পর স্টারমার বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক এখন ‘ভালো ও শক্ত অবস্থানে’ আছে।

পরে শুক্রবার তিনি আবার বলেন, শি-র সঙ্গে ‘খুব ভালো বৈঠক’ আমাদের ‘প্রত্যাশিত মাত্রার সম্পৃক্ততা এনে দিয়েছে’।

“আমরা আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছি এবং সত্যি বলতে কিছু বাস্তব অগ্রগতিও হয়েছে, কারণ যুক্তরাজ্যের দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে,” বেইজিংয়ে ব্যাংক অব চায়নাতে যুক্তরাজ্য-চীন বাণিজ্য ফোরামের সভায় এমনটাই বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

স্টারমারের সফরে এখন পর্যন্ত চীনে ব্রিটিশদের ভিসামুক্ত ভ্রমণ, হুইস্কির শুল্ক কমানোর পাশাপাশি চীনে ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রেজেনেকার কারখানা নির্মাণে এক হাজার ৯০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের চুক্তি হয়েছে।

সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধসহ নানান খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ঘোষণাও এসেছে।

চীনে ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্রিস টরেনস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ‘সফল’ আখ্যা দিয়েছেন।

“চীনের দিকে যুক্তরাজ্যের নজর দেওয়াটা বোধগম্য, কারণ বেইজিং তাদের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার,” বিবিসিকে বলেছেন টরেনস।

তিনি বলেন, স্টারমার ছাড়াও পশ্চিমা অন্য নেতারাও এর মধ্যে হয় চীন সফরে গিয়েছেন, বা সামনেই যাবেন। এদের মধ্যে এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও আছেন, এপ্রিলেই যার বেইজিংয়ে নামার কথা রয়েছে।

“যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য অর্থনীতিকে নিষেধাজ্ঞা দেবে, হুমকি-ধামকি দেবে এবং যে দেশগুলো চীনের সঙ্গে চুক্তি করবে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তো চীনের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে। এই বছরই সেই চুক্তি হবে বলে আমাদের ধারণা,” বলেছেন টরেনস।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চীন সফরের পর দিনকয়েক আগেই ট্রাম্প প্রতিবেশী দেশটিকে শাসিয়ে বলেছিলেন, অটোয়া যদি বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি করে তাহলে তাদের পণ্যে আরও শুল্ক আরোপ করা হবে।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা নিয়ে মন্তব্য করার পর ট্রাম্প কানাডা নিয়েও বলেছেন, “আমার মনে হয় চীনের সঙ্গে চুক্তি কানাডার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক।

“কানাডার অবস্থা ভালো নয়। তাদের অবস্থা খুবই খারাপ, কিন্তু এ জন্য চীনের দিকে তাকানো কোনো সমাধান নয়।”

স্টারমারের এরপর সাংহাই যাওয়ার কথা রয়েছে, সেখান থেকে তিনি টোকিও উড়াল দেবেন। জাপান গিয়ে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে কথা বলতে বলতে ডিনার করবেন।

যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের কড়া সমালোচনা করছেন।

দেশটির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেছেন, স্টারমার ‘বেইজিং গিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি-র কাছে মাথা নত করতে’। যুক্তরাজ্যের সরকার ‘চীনের টেবিল থেকে সামান্য অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য জাতীয় নিরাপত্তাকে বিক্রি করছে’ বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ছিল যুক্তরাজ্যের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার, চীন ছিল চতুর্থ বৃহত্তম অংশীদার, বলছে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights