‘চীন-রুশ সংশ্লিষ্ট’ ট্যাংকার বিধ্বস্ত: ওমান উপকূলে ছড়িয়ে পড়ছে তেল

অনলাইন ডেস্ক
ওমান উপকূলে আংশিক ডুবে যাওয়া একটি তেল ট্যাংকার থেকে রাসায়নিক তেল চুইয়ে বিস্তীর্ণ সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রবল বাতাস ও স্রোতের টানে এই দূষণ ইতোমধ্যে ২০০ কিলোমিটার দূরের মূল ভূখণ্ডের সৈকতে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে ৬০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি সামুদ্রিক এলাকা গ্রাস করে চরম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়েছে।

সন্দেহ করা হচ্ছে, ট্যাংকারটি রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’-এর অংশ এবং এর মালিক চীনা এক প্রতিষ্ঠান। এটি গত জুন মাসে এক রহস্যজনক বিস্ফোরণ ও আক্রমণের শিকার হয়ে ডুবে যেতে থাকে।

বুধবার (১২ আগস্ট) ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্যাংকারটি কাবিলিয়াহ দ্বীপের কাছে আটকে আছে। ওই স্থান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ওমানের মূল ভূখণ্ডের ‘রাস মাদরাকাহ’ সৈকতেও তেল পোঁছে গেছে। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি উত্তরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলেও আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই তেল পৌঁছে যেতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।

মালিক মেলেনি
‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের এই ট্যাংকারটির সুনির্দিষ্ট ও একক মালিকানা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভূ-স্থানিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিনম্যাক্স মেরিটাইম ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণা, এর মালিক চীনা একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের অংশ হিসেবে কাজ করছিল। যাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বিশ্ববাজারে রুশ তেল পরিবহন করা যায়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগেই এই ট্যাংকারটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এটি গত মে মাসে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে রওয়ানা হয়।

গত জুন মাসে ওমান উপসাগরের কাছে পৌঁছালে এই ট্যাংকারটি আক্রমণের শিকার হয়। আক্রমণের সুনির্দিষ্ট উৎস কিংবা কোনো পক্ষই আজ পর্যন্ত এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। বিস্ফোরণে ট্যাংকারটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা ১০ লাখ ব্যারেল তেল থেকে বর্তমানে এই অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ শুরু হয়েছে।

বর্তমানে ওমান সরকার ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে, তবে বাতাসের গতিবেগ ও বিস্তৃত অঞ্চলের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ট্যাংকারটি থেকে চুইয়ে পড়া তেলে ওই এলাকার সংবেদনশীল সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল চরম পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

জাহাজটির নাবিকদের বা ক্রু সদস্যদের বর্তমান অবস্থান বা উদ্ধার সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights