চুক্তি না হলে ইরানকে ‘চিরতরে শেষ করে দেওয়া’ হবে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা আছে—হয় তারা একটি নতুন চুক্তিতে আসবে, নতুবা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘চরম আঘাতের’ মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকে তিনি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের একটি বিস্তারিত ও হালনাগাদ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন একসময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। ট্রাম্প জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বোমা হামলা পুনরায় শুরু করতে চান না এবং মানবিক দিক থেকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানই তার পছন্দ। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো টেকসই চুক্তি না হয়, তবে ইরানকে ‘চিরতরে শেষ করে দেওয়ার’ মতো সামরিক সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করতে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেন্টকম কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্টকে ‘ফাইনাল ব্লো’ বা চূড়ান্ত আঘাতের বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এই পরিকল্পনায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনাগুলোতে সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী হামলার প্রস্তাব করা হয়েছে। ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ জারি রাখা এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপই ইরানকে তার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে।
এদিকে, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হোয়াইট হাউস এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না করলেও ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতির বদলে দৃশ্যমান কোনো ফলাফল চান। ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো পূরণ না করে, তবে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প।
এখন দেখার বিষয়, তেহরানের নতুন প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে কোনো কার্যকর সমাধান আনতে পারে কি না।
সূত্র: সিএনএন
