চোরাই পথে আনা ২১টি মহিষ জব্দ করলো পুলিশ

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১টি ভারতীয় মহিষ জব্দ করেছেন হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। শনিবার অপরাহ্নে ভুবনকুড়া ইউনিয়নের কুমারগাতী গ্রামের জবেদ আলীর পুত্র বাবুল মিয়ার বাড়ী থেকে মহিষগুলো আটক করা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত সীমান্ত এলাকার একদল চোরাকারবারী ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে গরু ও মহিষসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী পাচার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিবাগত রাতে একদল মহিষের পাল ভারত থেকে কোচপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন চোরাকারবারিরা। স্থানীয়রা চোরাকারবারিদের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র রায় এর নেতৃত্বে টহলরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় শনিবার মহিষগুলো মালিক বিহীন জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন। জব্দকৃত মহিষের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় আজ রবিবার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এজাহার নামীয় ৩ জন ও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলার কুমারগাতী এলাকার গ্রামের জবেদ আলীর পুত্র বাবুল মিয়া, সিদ্দিকের পুত্র হিরা ও মৃত ইয়াসিন আলীর পুত্র শহীদুল্লাহসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই পাচার কাজের সাথে যুক্ত হয়ে সীমান্ত থেকে চোরাকারবারী করে যাচ্ছে। দাবি করেন এরা সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত ও পেশাদার চোরাকারবারি। এদের সঙ্গে ভারতীয় পাচারকারীদের সাথে নিয়মিত যোগসাজশ রয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু ও মহিষ অবৈধভাবে এনে নিজেদের সঠিক দাবি করে বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারার কাগজ সংগ্রহ করেন পাচারকারীরা।
মহিষ জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র রায় জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান পরিচালনা করে ২১টি মহিষ জব্দ করা হয়। বর্তমানে মহিষগুলো থানা হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে মাঠে কাজ করছে থানা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights