ছেলেকে হারিয়ে আপসোস থামছে না বাবা আলী মিয়ার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন যেন ছেলের আয় দিয়ে যেন সংসারের হাল পরিবর্তন হয়। কিন্তু সেই সংসারের হাল পরিবর্তন করতে গিয়ে ছেলেকেই হারাতে হবে এটা যেন তার জানা ছিলো না। আর তাই কেন ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন সেই আপাসোস যেন থামছে না তার।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে প্রাণ হারানো ৬ বাংলাদেশির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকার আলী মিয়ার ছেলে আপন আহমেদও রয়েছেন। এদিন কুইন্সটাউনের একটি দোকানে আগুন লাগে। আর সেই দোকানে কর্মরত ছিলেন আপন আহমেদ। তার মারা যাওয়ার খবর শুনার পর থেকেই স্বজনরা আহাজারি করে যাচ্ছেন।
তাদের আহাজারিতে আশপাশ এলাকাতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা এসে তাদের সান্তনা দিচ্ছেন। কিন্তু সেই সান্তনায় স্বজনদের মন যেন শান্ত হচ্ছে না।
আপন আহমেদের বাবা আলী মিয়া বলেন, কেন ছেলে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। বিদেশ যদি না পাঠাইতাম তাহলে আজ আমার ছেলে আগুনে পুড়তো না। আমি নিজেকে কি বলে শান্তনা দিবো। আল্লাহ কেন আমাকে সন্তান দিয়েছিলেন। আবার কেনইবা তাকে নিয়ে গেলেন। গতকালও আমার সাথে অনেক্ষণ সময় নিয়ে কথা বলছিলো। এখন আর আমার সাথে কথা হবে না। আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে ৪ জনের বাড়ি আলীরটেকে, একজনের বাড়ি বক্তাবলীতে এবং একজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। ইতোমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সরকারিভাবে যে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা যাবে।
