ছেলের হাতে বাবা খুন, ১০ মাস পর রহস্য উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
অনুশাসন থেকে রক্ষা পেতে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে বাবাকে হত্যা করেছে ছেলে। বাবাকে হত্যার ১০ মাস পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে হত্যার কারণ জানিয়েছেন ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়।

বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে বৃহস্পতিবার বরিশাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম।

হত্যার শিকার মো. রুস্তুম আলী হাওলাদার (৭৫) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাওকাঠি গ্রামের মৃত আতাহারউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। হত্যাকারী তার একমাত্র ছেলে বাদশা হাওলাদার।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল রুস্তুম আলী হাওলাদার নিখোঁজ হয়। দুইদিন পর বাড়ির পাশের কচুক্ষেত থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়।

গত ২৮ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেখা যায় বৃদ্ধ রুস্তুম আলী হাওলাদারকে শ্বাসরোধকরে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাই আইউব আলী বাদী হয়ে গত ২১ জানুয়ারি বাকেরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করে।

ওসি বলেন, রুস্তুম আলী হাওলাদারের ছেলে বাদশা হাওলাদারের অস্বাভাবিক জীবন যাপন ও কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। গত ২২ জানুয়ারি পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা তার বাবেকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

হত্যার জবানবন্দির বরাতে তিনি বলেন, হত্যার শিকার রুস্তুম আলী দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে দাওকাঠি গ্রামে দ্বিতল ভবন করে পরিবার নিয়ে বাস করেন। একমাত্র ছেলে বাদশাকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। এজন্য ছেলেকে অনুশাসনসহ বকাবকি করেন।

এ নিয়ে বাবার উপর ক্ষুদ্ধ হয় বাদশা। বাবার অনুশাসন থেকে রক্ষা ও স্বাধীন জীবনযাপনের জন্য তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল বেলা ১১টার সময় দেখতে পায় তার বাবা বাড়ির পাশের কচুক্ষেতে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছেলে বাদশা কচুক্ষেতে গিয়ে একটি গামছা দিয়ে বাবার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে তার লাশ কচুক্ষেতে রেখে পাতা দিয়ে ঢেকে দেয়। বাবাকে হত্যার পর স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। বাবার হত্যা ও পরিকল্পনাসহ সকল বিষয়ে গোপন রাখতে নানা কৌশলও অবলম্বন করে।

ওসি বলেন, ছেলে বাদশা তার বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম রেজার কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights