ছেলে মেয়ে ও নাতনিকে হারিয়ে দিশেহারা নূরে আলম

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জন নারী, ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন শিশু। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩৫ জনকে আহত অবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা নূরে আলম (৫০)। এই দুর্ঘটনায় তিনি তার ছেলে, মেয়ে ও নাতনিকে হারিয়ে আহাজারি করেন তিনি। এরা হলেন নূরে আলমের ছেলে ফারুক হোসেন (৫৫) নাতি সাদিয়া বেগম ( ২২) ও মেয়ে পারভীন (৬২)। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পুকুরে বাসটি ডুবে যায়।

বাসটি পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে প্রায় ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে রওনা হয়। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি সদরের ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি পুকুরে পড়ে যায় বাসটি।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৭ জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে। এছাড়া ৩৫ জন আহত রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীরা অতিরিক্ত পানি খেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন। তাদেরকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ তবে এ হাসপাতাল ছাড়াও অন্যত্র চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে।

ঝালকাঠি সদর থানার এস আই গৌতম কুমার ঘোষ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি উত্তোলন করা হয়েছে। বাসের মধ্যে আর কোন লাশ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অংশ নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights