জনগণই দেশের মালিক কোদাল হাতে মাটি কেটে উন্নয়নের মহাযজ্ঞে নামলেন প্রধানমন্ত্রী

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ

করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ এই রণধ্বনিকে সামনে রেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন বিপ্লবকে ফিরিয়ে আনলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৬ মার্চ ২০২৬ সোমবার সকালে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় তপ্ত রোদে ঘাম ঝরিয়ে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমেই শুরু হলো দেশের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা ও খাল পুনরুদ্ধারের এক মহাবিপ্লব।
উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি। আমাদের লক্ষ্য গদি দখল নয়, বরং গ্রামের ২০ কোটি মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী প্রথম মন্ত্রিসভাতেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছে বিএনপি সরকার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, গত দেড়-দুই দশকে অযত্ন আর অবহেলায় দেশের নদী-নালা ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষায় যেমন উজান থেকে আসা পানিতে ঘরবাড়ি-গবাদিপশু ভেসে যায়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয় মাঠ। তিনি বলেন, মাটির নিচের পানি অনেক গভীরে চলে গেছে। এখন সময় এসেছে ওপরের পানি ধরে রাখার। এই ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি আমরা রিজার্ভ হিসেবে ধরে রাখতে পারবো, যা সারা বছর সেচ কাজে ব্যবহৃত হবে।
দেশজুড়ে ৪ কোটি পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার কার্ড বিতরণ শেষ হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব মা-বোনেরা এই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের জন্য আসছে কৃষক কার্ড, যা দিয়ে তারা সরকারি সব সাহায্য সরাসরি ভোগ করতে পারবেন।
কেবল কৃষি নয়, উত্তরবঙ্গের বেকারত্ব ঘুচাতে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা বা মিল ইন্ডাস্ট্রি গড়ার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ঈদের পরেই বড় বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বসে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ পুরো রংপুর বিভাগে ইপিজেড ও নতুন ইন্ডাস্ট্রি গড়ার কাজ শুরু হবে।
উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদাত্ত কণ্ঠে বলেন, এই দেশের মালিক কোনো ব্যক্তি বা পরিবার নয়, বরং এই দেশের মালিক হচ্ছেন আপনারা (জনগণ)। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেকেই মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, কিন্তু কাজ দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, বিদেশিরা যদি তাদের দেশ গড়তে পারে, আমরা কেন পারবো না?।
সবশেষে, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খালটির কাজ শেষ হলে তা আবারও নিজ চোখে দেখতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং রোজা রেখে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে ইফতারের পর প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যের ইতি টানেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights