জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ গ্রেফতার ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে সংস্থাটির সদর দফতরের বাইরে উত্তাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সুশীল সমাজ, রাজনীতি ও বিনোদনজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই নজিরবিহীন প্রতিবাদ চলাকালে মার্কিন পুলিশ অস্কারজয়ী প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুসান সারানডন এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও বেসামরিক মানুষ হত্যার প্রতিবাদে সরব হওয়া এসব বিক্ষোভকারী জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে নেতানিয়াহুর উপস্থিতির তীব্র বিরোধিতা জানান।

গ্রেফতার হওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকায় অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারানডন ছাড়াও রয়েছেন এমি পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী হান্নাহ আইনবিন্ডার, ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসীয় প্রার্থী দরিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী সদস্য চি ওসে।

বিশ্বমঞ্চে নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে সাধারণ পরিষদ ভবনের বাইরে যখন এই বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে, ঠিক তখনই ভেতরে এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার পরপরই বিশ্বনেতাদের বড় একটি অংশ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ হিসেবে একযোগে কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান একাকীত্ব এবং নিজ দেশে সম্ভাব্য নির্বাচনী পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়েও নেতানিয়াহু সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সাফাই গান।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ইহুদিদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ (জেভিপি)-এর আহ্বানে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন প্রায় দুইশত অধিকারকর্মী। তাদের সবার পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট, যেখানে লেখা ছিল—‘বোমা নয়, মানুষের পেছনে অর্থ ঢালো’, ‘যুদ্ধ চাই না’ এবং ‘ফিলিস্তিন মুক্ত কর’। জাতিসংঘ ভবনের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ মাইকে ঘোষণা দিয়ে সড়ক খালি করার নির্দেশ দিলেও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরতে অস্বীকৃতি জানান। তারা পিচঢালা রাস্তায় বসে পড়েন এবং নেতানিয়াহুবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৫০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মানিজে মোরাদিয়ান, যিনি বংশসূত্রে ইরানি ও ইহুদি ঐতিহ্যের ধারক, নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের নামে এবং আমাদের দেওয়া করের টাকায় গাজায় পুরো একটি সমাজকে যেভাবে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। এই ধরনের নৃশংসতা ও বর্বরতাকে যুক্তিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরতে জাতিসংঘের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।

একপর্যায়ে বাইসাইকেল নিয়ে পৌঁছানো বিশাল এক পুলিশ দল আন্দোলনকারীদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের পুলিশ একে একে তুলে নিয়ে প্লাস্টিকের জিপ-টাই দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং প্রিজন ভ্যানে তুলতে শুরু করে।

তবে আটকের পরও আন্দোলনকারীদের মনোবল ভেঙে পড়েনি; পুলিশি পাহারায় প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময়ও প্রতিবাদকারীরা উচ্চকণ্ঠে ‘নেতানিয়াহু গো টু হেল’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights