জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দলের উদ্যোগে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চারু ও কারুশিল্পী দলের উদ্যোগে ‘সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৬’ রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) নির্বাহী পরিচালক এবং বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দে রিপন।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চারুশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি দেশের পাঁচজন বিশিষ্ট কারুশিল্পীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তারা হলেন—শতরঞ্জি শিল্পী মো. আনোয়ার হোসেন, নকশিকাঁথা শিল্পী রুনা বেগম, বাঁশ-বেত শিল্পী মো. জয়নাল, শখের হাঁড়ি শিল্পী সঞ্জয় কুমার এবং শীতলপাটি শিল্পী গীতেশ চন্দ্র দাস।

সংবর্ধিত অতিথিরা বক্তব্যে বাংলাদেশের চারুশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন। অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া তাঁর বক্তব্যে কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন এবং এ ধরনের সংগঠন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দে রিপন বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ সৃজনশীল পেশায় যুক্ত থাকলেও চারু ও কারুশিল্পীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। তাদের পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ সংগঠন গঠন করা হয়েছে।

সংগঠনের উপদেষ্টা সরকার জিয়া উদ্দিন আহাম্মদ বিপ্লব রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিল্পীদের একটি সংগঠিত পেশাজীবী প্ল্যাটফর্মের অভাব ছিল, যার ফলে শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নানা প্রভাব তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সংগঠন দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী বক্তব্যে সংবর্ধিত ও সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান এবং বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের শিল্পকলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় চারু ও কারুকলার গুরুত্বও তিনি উপলব্ধি করেছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শেখ মনির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে সব জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে সম্মিলিতভাবে লালন করতে হবে। এ লক্ষ্যেই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজনে সহযোগিতাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights