জাবিতে থাপ্পড় দিয়ে শিক্ষার্থীর কান ফাটানোর অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান মাহমুদ ফরিদের বিরুদ্ধে থাপ্পড় মেরে এক শিক্ষার্থীর কান ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের গেস্টরুমে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ ফরিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ভুক্তভোগী সজীব আহমেদ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (৪৮তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হলের সিনিয়র এক শিক্ষার্থীর অতিথির সাথে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের খারাপ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে গেস্টরুম করানো হয়। একপর্যায়ে সজীব আহমেদের কানে এলোপাতাড়ি থাপ্পড় মারেন হাসান মাহমুদ ফরিদ। থাপ্পড়ে সজিব আহমেদের কান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রাতেই তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভারের এনাম মেডিকেলে নেওয়া হয়।
এদিকে হলের অন্য ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জুনিয়রদের হুমকি ও আহত সজীবের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিনিয়রের থাপ্পড়ে সজীবের কান ফেটে রক্ত বের হয়। তখন সজীব কেঁদে কেঁদে অনুরোধ করেন, ‘ভাই আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আর রাজনীতি করব না। বাসায় চলে যাব।’ ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুক ইমরান বলেন, ‘ও (সজীব) নাটক করতেছে। আজকে গেস্টরুম থেকে ওর লাশ বের হবে।’ পরে কয়েকজন সজীবকে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিতে চাইলে ইমরান বাধা দেন। এ সময় তিনি বলতে থাকেন, ‘আগে দেখ, নাটক করতেছে কিনা। এখন মেডিকেলে নিয়ে গেলে নিউজ হবে। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব না।’
গেস্টরুম চলাকালীন সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সামিন ইয়াসির শাফিন ও শাহ পরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক আলরাজি সরকার প্রমুখ।
ঘটনার বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী সজীব আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল ফারুক ইমরানও ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘রমজান মাস উপলক্ষে সাংগঠনিক দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গেস্টরুম করানো হয়। সজীব গেস্টরুমে এসে শারীরিক দুর্বলতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে তার চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
মারধরে অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ ফরিদ কান ফাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘গেস্টরুমে এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। কেউ অসুস্থ হয়েছে কিনা তা আমি জানি না।’ আবার কেউ অসুস্থ হলেও তার কী করার আছে সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
এ বিষয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেছি। তবে সে এখনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। হল প্রশাসনের মিটিং ডেকেছি, আলোচনা করে ব্যবস্থা নিব।’
