‘জাহাজের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ইরানের জব্দ করা অর্থ দিয়ে’, জানালেন ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নতুন হামলার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাহাজ ও কার্গোর যেকোনো ক্ষয়ক্ষতি মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ দিয়ে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে জাহাজ, কার্গো বা এ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে, তবে এটিই ন্যায্য ও সঠিক পদক্ষেপ। তবে শিপিং কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ দেবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিকবার সংঘাত হয়েছে। এর মধ্যেই ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালালে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই মূলত ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়িয়ে চলেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানের প্রায় ২০০ কোটি ডলার জব্দ রয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য দেশেও ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, যার পরিমাণ ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
গত জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। সেখানে জব্দ অর্থ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানে ৩০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা ছিল। তবে এই অর্থের ব্যবহার নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। গত কয়েক দশকে ইরানের সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী হামলার শিকার ব্যক্তিরা এই অর্থ দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
ওই চুক্তিতে ইরান কখন ও কীভাবে অর্থ হাতে পাবে, তা অস্পষ্ট ছিল। তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় স্মারকে উল্লেখিত সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
