জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত হাওয়া বেগমের মুখে হাসি ফুটালো বসুন্ধরা শুভসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
৬৮ বছর বয়সেও থামেনি জীবনসংগ্রাম। অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে চলে মোছা. হাওয়া বেগমের জীবন। বয়সের ভারে শরীর আর আগের মতো কাজ করতে পারে না। অসুস্থতা নিত্যসঙ্গী হলেও নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। কাজ করতে না পারলে জোটে না খাবারও। এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের খাদ্যসহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তার জীবনে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের হাজি মার্কেট গ্রামের বাসিন্দা হাওয়া বেগম। তার আপনজন বলতে কার্যত কেউ নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সক্ষমতা কমে গেলেও জীবন চালানোর তাগিদে এখনো প্রতিদিন কাজ করতে হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার উদ্যোগে তার বাড়িতে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা তার হাতে এক বস্তা চাল, আলু, পেঁয়াজ, মুরগির মাংস, মসুর ডাল, বুটের ডাল, আটা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হাওয়া বেগম বলেন, ‘আমি অনেক খুশি হইছি। এই খাবারগুলা আমার জন্য অনেক বড় সহায়তা। বসুন্ধরা শুভসংঘ আজকে আমারে যে সহযোগিতা করল, আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখে। আমি তাদের জন্য অনেক দোয়া করি।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সভাপতি নীরঞ্জন চন্দ্র দাস বলেন, ‘সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যতম লক্ষ্য। হাওয়া বেগমের মতো মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমাদের উদ্যোগ সার্থক হয়। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। খাদ্যসহায়তার মতো ছোট ছোট উদ্যোগও একজন অসহায় মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।’
খাদ্যসহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সভাপতি নীরঞ্জন চন্দ্র দাস, সহসভাপতি সবুজ কুমার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক রমজান ইসলাম স্বাধীন, কার্যনির্বাহী সদস্যসহ সংগঠনের অন্য স্বেচ্ছাসেবকেরা।
