জুয়াড়িদের হামলায় আহত সেই কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) মারা গেছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আরিফুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মামলার আসামিদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে অন্তত সাতটি বাড়ি পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে। পরে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা।

নিহত আরিফুল ইসলাম আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এ আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায় থেকে মূল কমিটিতে শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে আরিফুল ইসলাম নিজ গ্রামের মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে সেখানে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। আরিফুল তাদের ডেকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানান এবং তা না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর কথা বলেন।

এ ঘটনার জের ধরে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আরিফুলকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রায় ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ৬ আগস্ট আরিফুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তবে সন্তান জন্মের পর তার মুখ দেখে যেতে পারেননি আরিফুল।

হামলার ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ২ আগস্ট আদিতমারী থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় রহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে আট আসামি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। প্রধান আসামি রহিদুল পলাতক থাকলেও গত ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার হাতিরঝিলের নয়াটোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

আরিফুলের মৃত্যুর পর অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, আরিফুলের মৃত্যুর খবরের পর স্থানীয়রা অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর করছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights