জুলাই বিপ্লবে জবি অগ্নিকন্যা সম্মাননা ও নবীনবরণ – ২০২৫
আজ ১৩ আগস্ট (বুধবার) জবি ক্যাম্পাসে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত হয় জুলাই বিপ্লব জবি অগ্নিকন্যা সম্মাননা ও নবীনবরণ ২০২৫।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থাকা জবির ২০ জন নারী শিক্ষার্থীকে ‘জুলাই অগ্নিকন্যা সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। এছাড়া শতাধিক নবীন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
অ কে এম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রায়হান হাসান রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন ও অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জবি শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফ, শাখা বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, শারমিন এস মুরশিদ, (মাননীয় উপদেষ্টা-মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার)
প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব নুরুল হক নূর (সভাপতি- গণঅধিকার পরিষদ,সাবেক ভিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
বাংলাদেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না পারলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরাই প্রথম বুঝতে পেরেছে, ‘সব শালারা বাটপার’ এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম।
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নে আমরা সবসময় এক ও অভিন্ন হয়ে অতিতে কাজ করেছি, সামনে ও কাজ করে যাব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার এমন কোন ইতিহাস নেই যেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান নেই। জুলাইয়ের কোটা আন্দোলন থেকে এক দফা দাবি সব জায়গায় জাতীয়তাবাদী আদর্শের অগ্রণী ভূমিকা ছিলো।”
জবি শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফ বলেন, “জুলাইকে বিপ্লব বলার জন্য ছাত্র অধিকার পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় জুলাইকে ছোটখাটো আন্দোলন বা অভ্যুত্থান বলা হয়। কিন্তু আমরা জুলাইকে বিপ্লব হিসাবেই দেখি।”
সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী “মোছা:ফাতেমা আফরিন রুপা এবং তৌফিক ইসলাম ( রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ২০২৪-২০২৫ সেশন)।
সমাপনী বক্তব্য রাখেননূরুল হক নূর, তিনি বলেন যে, “পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ায় জনগণ সরকার পতনের জন্য রাজপথে নেমেছিল। এই অভ্যুত্থানের পর অন্যান্য দেশের মতো দ্রুত উন্নয়ন হয়নি, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।”
তিনি আরও বলেন, “কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ না থাকলে অপরাজনীতি ফিরে আসে। ছাত্র সংসদ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তিক ও সৃজনশীল রাজনীতির ক্ষেত্র। এই মূল্যায়নের জন্যই আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছিলাম।”
নূরুল হক নূর বলেন, “গত ১৬ বছরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ছিল না। মানুষ মনে করেছে, যে লাউ সেই কদু। কিন্তু আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্র জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং প্রত্যেক নাগরিকের সামাজিক-অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”
