জুলাই শহীদ ও আহত উপকারভোগী বাড়ছে

রুকনুজ্জামান অঞ্জন
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যাচাইবাছাই করার পর জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার। নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটে এই উপকারভোগীর সংখ্যা আরও ৪ হাজার বাড়ানো হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই শহীদ ও আহত উপকারভোগীদের মাসিক ভাতা দিতে ২৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই মাস থেকে শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি চালু হতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ফরম্যাটে জুলাই যোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বাবদ ২৩৭ কোটি ২৫ লাখ বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ২১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সে হিসেবে আসন্ন বাজেটে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া উপকারভোগীও বাড়ছে আরও ৪ হাজার। সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং জুলাই আহতদের জন্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকার মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণ করে। আহতদের আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই ভাতা দেওয়া হচ্ছে। শহীদদের প্রতিটি পরিবার মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া ‘এ’ ক্যাটাগরিতে গুরুতর আহত ব্যক্তিরা মাসে ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে মাঝারি ধরনের আহত যোদ্ধারা মাসে ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা যোদ্ধারা মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের আমলেও একইহারে ভাতা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ায় বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে। সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে ৮৩৬ জন শহীদ হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের মতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভসংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৪০০ জনে। অপরদিকে, জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে আহত উপকারভোগীদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজ অনুযায়ী প্রায় ২০ হাজার। তবে সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ বা আহত আন্দোলনকারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৮০০। যাচাইবাছাই শেষে, এই দুই ক্যাটাগরিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শহীদ ও আহত মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার উপকারভোগীকে মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এবার উপকারভোগীর সংখ্যা আরও ৪ হাজার বাড়িয়ে মোট ১৮ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জহিরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই শহীদ ও আহতদের মাসিক ভাতার উপকারভোগী ছিল ১৪ হাজার। সে সময় অনেক আবেদন পেন্ডিং ছিল। যাচাইবাছাই শেষে ভাতার জন্য আরও ৪ হাজার উপকারভোগী (জুলাই শহীদ ও আহত) যুক্ত হচ্ছে। এ কারণে বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন অর্থবছরে জুলাই শহীদদের সন্তানদের শিক্ষা-বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইবাছাই কার্যক্রম চলছে। আগামী জুলাই থেকে শহীদ সন্তাদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights