জেলার সেরাছাত্র আবু সাঈদের উচ্চশিক্ষা অনিশ্চয়তায়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সংসারের অভাব পড়াশোনা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। পড়ালেখার পাশাপাশি কখনো অটোভ্যান চালিয়ে পরিবারের হাল ধরেছেন আবু সাঈদ খুদুরী। সেই সংগ্রামের মধ্যেই ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। সর্বোচ্চ একহাজার ২৫০ নম্বর পেয়ে হয়েছেন গাইবান্ধা জেলার সেরা শিক্ষার্থী। তবে অর্থাভাবে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই মেধাবীর উচ্চশিক্ষার পথ।

ফলে ডাক্তার হয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন এখন ফিকে হতে বসেছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দেওডোবা এলাকার রাশিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাঈদ। পরিবারে স্বচ্ছলতা তো দূরের কথা, নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। বাবা রাশিদুল ইসলাম পেশায় ভ্যানচালক। পরিবারের থাকার জন্য রয়েছে একটি পুরোনো ঘর। জমিজমাও নেই বললেই চলে। সংসারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন একটি অটোভ্যান। সেটিও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা।

দিন আনে দিন খায় পরিবারটি। অটোভ্যানের আয় থেকেই সংসারের খরচ ও ঋণের কিস্তি মেটাতে হয়। বাবার অসুস্থতা বা আয় কমে গেলে সংসারের চাকা সচল রাখতে আবু সাঈদকেও ভ্যান চালাতে হয়। এভাবেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন আবু সাঈদ। আর ফল প্রকাশের পর তার সেই সংগ্রামের স্বীকৃতিও মিলেছে।

কিন্তু ফল প্রকাশের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি পরিবারটির। সামনে এবার ভালো একটি কলেজে ভর্তির পালা। উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন অর্থ। আর সেই অর্থ জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

একদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তি, সংসারের ব্যয়, অন্যদিকে যোগ হয়েছে ছেলের কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ। সব মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থায় রাশিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘অভাব-অনটনের সংসারে বাপ-বেটা দুজনেই ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। ছেলের এই সাফল্যে আমি গর্বিত। কিন্তু তাকে ভালো কলেজে ভর্তি করানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই। শুনি ভালো কলেজে পড়াতে অনেক টাকা লাগে। এত টাকা আমি কোথায় পাব? আমার তো জমিজমাও নেই যে বিক্রি করে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাব।’

রাশিদুল আরও বলেন, ‘ছেলের ভর্তি আর লেখাপড়ার খরচ কীভাবে জোগাড় করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। ওকে পড়াতে পারব কি না, আল্লাহই ভালো জানেন। সমাজের বিত্তবানরা যদি ছেলেটার পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।’

আবু সাঈদের মা শিউলি আক্তার বলেন, ‘হামার কিচ্ছু নাই, হামরা কী দিয়ে ছইলের পড়ালেখা করামো?’

সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় শিক্ষক বলেন নজমুল হুদা বলেন, ‘আবু সাঈদ ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। গাইবান্ধা জেলায় প্রথম হয়েছে জেনে আমরা এলাকাবাসী গর্বিত। কিন্তু তাদের পরিবার খুবই অসচ্ছল। সমাজের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ছেলেটার পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়, তাহলে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights