জ্বলে উঠলেন ইমন, টানা দ্বিতীয় জয় পেল লাহোর
অনলাইন ডেস্ক
গ্লোবাল সুপার লিগে (জিএসএল) প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমন। ৩৩ বলে ৪৭ রানের হার না মানা ইনিংসে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ইমন।
টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ডেজার্ট ভাইপার্সকে ৩৮ রানে হারিয়েছে লাহোর কালান্দার্স, তুলে নিয়েছে টানা দ্বিতীয় জয়।
গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল লাহোর কালান্দার্স। এদিন ওপেনিংয়ে নেমে দেখেশুনে এগিয়েছেন লাহোরের দুই ওপেনার শামিল হুসাইন এবং শায়ান জাহাঙ্গীর। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ৩৭ রান। ১২ বলে ৯ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান শামিল। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে শামিলের উইকেট হারিয়ে ৪২ রান তোলে লাহোর কালান্দার্স।
পাওয়ারপ্লে শেষেই বিদায় নেন তিনে নামা আব্দুল্লাহ শফিক। বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ৬ বলে ৮ রান করে ফিরে গেছেন সাজঘরে। এরপর ক্রিজে আসেন পারভেজ হোসেন ইমন। টিকে থাকা ওপেনার শায়ান ধুঁকেছেন। ৩০ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে দলের ৪৯ রানের মাথাতে থামেন তিনি। রানের গতিও অনেকটাই কমে যায় লাহোরের। টানা ৩ উইকেট হারিয়ে বেড়েছে চাপও।
সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করার অভিযানে নামেন পারভেজ হোসেন ইমন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন ইমন। পাঁচে নেমে তার সাথে যোগ দিয়েছিলেন ফারহান ইউসুফ। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন ইমন-ইউসুফ। ১৭ বলে ২২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে ইউসুফ বিদায় নিলেও ইমন ছুটেছেন।
শেষ দিকে টর্নেডো ব্যাটিংয়ে সঙ্গী হিসেবে অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েলকে পান পারভেজ হোসেন ইমন। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে গতি পায় লাহোরের ইনিংসও। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন ব্রেসওয়েল-ইমন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। দলের বোর্ডে রান তুলেছেন রকেটের গতিতে।
ফিফটির খুব কাছে গেলেও ফিফটি না ছুঁয়ে অপরাজিত থেকে যান দুজন। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় লাহোর কালান্দার্স। ৩৩ বলে ৪৭ রান করে টিকে ছিলেন ইমন। অন্যদিকে ২৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। ডেজার্ট ভাইপার্সের হয়ে খারি পিয়েরে ২ উইকেট নিয়েছেন। ভাইটাল লওস এবং নাথান স্মিথ ১টি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে দুই ওপেনার কাইল মেয়ার্স এবং আন্দ্রিস গোউসের ব্যাটে ভর করে দারুণ শুরু পেয়েছিল ডেজার্ট। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন দুজন। মেয়ার্স এবং গোউসের সাবলীল ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে ডেজার্টের ইনিংস। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৫ রান তোলে ডেজার্ট ভাইপার্স।
ওপেনিং জুটিতে মেয়ার্স এবং গোউস মিলে তোলেন ৭০ রান। ২৮ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান মেয়ার্স। গোউস এক প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন। আরেক প্রান্তে ব্যাটাররা সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না। যে কারণে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে ডেজার্ট। দলের উপর চাপও বেড়েছে।
তিনে নামা রাইলি রুশো ১২ বলে ৯ রান করেছেন। গোউস ফিফটি ছুঁয়েছেন। যদিও ফিফটির পর বেশি দূর আগাতে পারেননি। ৩৮ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান ডেজার্টের ওপেনার। তাতে যেন দলের জয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।
শেষ দিকে অধিনায়ক শাদাব খান কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে কাজ হয়নি তেমন একটা। ১৩ বলে ১৩ রান করেছেন শাদাব। দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না এই ইনিংস। ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান তুলে থেমেছে ডেজার্ট। ৭ বলে ১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন খারি পিয়েরে। ৩৮ রানের জয় তুলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। লাহোরের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন উসামা মির। ২টি করে উইকেট নেন শাহাব খান এবং মেহরান মুমতাজ। ১ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ ইমরান।
