জ্বালানি তেলের মজুত বাড়াতে হুলস্থুল

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

খুলনার দৌলতপুরের পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অয়েল ডিপো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, যশোর, বরিশালসহ ১৬টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গত দুই দিনে এ জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

জ্বালানি তেল পরিবেশক ও পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহের সংকট তৈরি হতে পারে বা দাম বাড়তে পারে এ ধারণা থেকেই জ্বালানি তেল সংগ্রহের হুলস্থুল অবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্রেতার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তবে ডিপো কর্তৃপক্ষ বলছেন, ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেলের মজুত আছে। সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় শতভাগ আমদানি-নির্ভর। ফলে যুদ্ধের কারণে আমদানি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুলনাসহ এ অঞ্চলের ১৬টি জেলায়। গতকাল খুলনার দৌলতপুরে যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রধান ফটকের সামনে জ্বালানি তেল নিতে আসা অপেক্ষমান ট্যাংলরি ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। আগে দিনে ৫০টা গাড়ি লোড হতো, এখন সেখানে দিনে ১০০-২০০টা তেলের গাড়ি লোড হচ্ছে। তার পরও অনেক গাড়ি তেলের জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই দিন ধরে চাপ অনেক বেশি। গতকাল এ ডিপো থেকে ১৩ লাখ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১ লাখ ৭৬ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১ লাখ ১৯ হাজার লিটার অকটেক বিক্রি হয়েছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, সবাই প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় কিছুটা বেশি তেল নিয়ে মজুত করছে। তেলে সংকট হলে বা দাম বাড়লে সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এতে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বলে মনে করেন জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম। তিনি বলেন, কিছু লোকের মধ্যে জ্বালানি তেলে মজুত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যানবাহনের মালিকরা নিত্যদিনের প্রয়োজনের দ্বিগুণ তেল কিনছেন। অপরদিকে ক্রেতার চাহিদার তুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হচ্ছে।

তবে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে দাবি করে যমুনা অয়েল ডিপো ম্যানেজার (সেলস) আবদুল বাকী বলেন, প্রতিদিন মাদার ভেসেল থেকে তেল ডিপোতে আসছে। শুধু খুলনায় যমুনা ডিপোতেই জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে কোটি লিটারের ওপরে। মানুষজন যেটা মনে করছে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights