জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ লাখ বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসাবে থাইল্যান্ড, বছরে উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াট

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বড় ধরনের সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে থাইল্যান্ড। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশটির ১০ লাখ পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে মোট ৫ গিগাওয়াট বা ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত প্রমফান।

তিনি বলেন, জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে ২০০ বিলিয়ন বাথ বা প্রায় ৬ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের একটি জরুরি তহবিল ব্যবহার করা হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে ভবিষ্যতেও যাতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব থাইল্যান্ডকে বারবার মোকাবিলা করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো মূলত গ্যাসনির্ভর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬০ শতাংশের বেশি এসেছে গ্যাস থেকে। বিপরীতে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে এসেছে প্রায় ১০ শতাংশ।

জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের এক-চতুর্থাংশের বেশি আমদানি করতে হয় থাইল্যান্ডকে। অন্যদিকে পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, দেশটি মোট এলএনজির প্রায় অর্ধেক স্পট মার্কেট থেকে কেনে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে থাইল্যান্ডের ওপর দ্রুত চাপ তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে রুফটপ সোলারকে জ্বালানির দামের ঝুঁকি কমানোর একটি উপায় হিসেবে দেখছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে নতুন ৫ গিগাওয়াটের লক্ষ্য দেশটির ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করা হবে। পরিকল্পনাটি আগামী মাসে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

জ্বালানি খাতের মডেলিং প্রতিষ্ঠান ট্রানজিশনজিরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ থাইল্যান্ডে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৬ গিগাওয়াট। এর মধ্যে আবাসিক বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট। নতুন লক্ষ্য পূরণ হলে দেশটির ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি হবে।

রুফটপ সোলার স্থাপনে প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার বাথ বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে থাই সরকার। পাশাপাশি প্যানেল স্থাপনের জন্য ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে ছিল থাইল্যান্ড। তবে সরকারি প্রণোদনা কমে যাওয়ার পর স্থাপনের গতি কমে যায়। পরে গত দশকের শেষ দিকে ভিয়েতনাম দেশটিকে ছাড়িয়ে যায়।

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের নতুন উৎসও খুঁজছে থাইল্যান্ড। দেশটি নতুন দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয় চুক্তি করারও চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পিটিটির অনুসন্ধান ও উৎপাদন শাখা পিটিটিইপি আন্দামান সাগর ও মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বাজেটও বরাদ্দ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights