ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোতেই ‘ভরসা’ চার গ্রামের মানুষের
ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন মুহুরী নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকোর কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকায় কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় জগতপুর, দৌলতপুর-বরইয়া ও উত্তর ধর্মপুর গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত এই বাঁশের সাঁকোই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়লে সাঁকোটি প্রায়ই ডুবে যায়, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, চার গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের জমি নদীর দুই পাশে ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে, পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। একটি সেতু হলে কৃষিকাজসহ জীবনযাত্রা অনেক সহজ হতো।
কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, “ছোটবেলা থেকেই এই কষ্ট দেখে আসছি। বর্ষাকালে সাঁকো পার হওয়া খুবই বিপজ্জনক।”
অন্য কৃষক আবুল কাশেম বলেন, “সবজি চাষ করলেও যোগাযোগ সমস্যার কারণে বাজারে নিতে কষ্ট হয়। সেতু হলে আমাদের জীবন বদলে যাবে।”
শিক্ষাক্ষেত্রেও এই সমস্যার প্রভাব পড়ছে। উত্তর জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়। এরই মধ্যে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার বলেন, সেতু নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে।
স্থানীয়দের দাবি, মুহুরী নদীর এই অংশে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে চার গ্রামের অর্থনীতি, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ বলেন, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
