টঙ্গীবাড়ীতে সরকারি লিজের দুটি দোকান ৬৫ লাখে বিক্রির অভিযোগ

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

সরকারি খাসজমির ওপর লিজ নেওয়া দোকান বিক্রির নিয়ম নেই। অথচ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর দিঘিরপাড় বাজারে দুটি দোকান প্রায় ৬৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে সরকারি লিজের সম্পত্তি এভাবে বেচাকেনা হয়ে আসছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দিঘিরপাড় বাজারের বিছনপট্টি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লিজের আওতাধীন একটি দোকানে মুদি মালামালের ব্যবসা চলছে। সেখানে থাকা ব্যবসায়ী জানান, তিনি অল্প কিছুদিন আগে দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিজল মোল্লার মাধ্যমে দোকানটি ভাড়া নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মূলচর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ১৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের দিঘিরপাড় বাজারের বিছনপট্টির ৩৮৯ নম্বর দোকানসহ অকৃষি খাসজমির (চান্দিনা ভিটি) দুটি দোকান প্রায় ৬৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইসমাইল পির নামে এক ব্যক্তি ওই দোকান দুটি মূলচর গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে সজীব মোল্লার কাছে বিক্রি করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান বিক্রির প্রক্রিয়ায় আব্দুল মান্নান খান, স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী মো. মামুনসহ কয়েকজন সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে আব্দুল মান্নান খান বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি জানান, দোকান বিক্রিতে তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।

তবে দোকানে ভাড়াটিয়া তোলার বিষয়টি এড়িয়ে দিঘিরপাড় বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিজল মোল্লা বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। সেজন্য আগেই টঙ্গীবাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অবৈধভাবে বিক্রির বিষয়টি জানিয়েছি। এরপরও তারা কীভাবে দোকান বিক্রি করলেন, তা আমার জানা নেই।’ মান্নান খানের যোগসাজশে এই কেনাবেচা হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন তিনি।

বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু কাউসার সোহেল বলেন, ‘সরকারি লিজের চান্দিনা ভিটি বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। আমি দোকান বিক্রির বিষয়ে কিছু জানি না।’

দোকানের ক্রেতা সজীব মোল্লার বড় ভাই বলেন, ‘ইসমাইল পির আমার ভাইয়ের বন্ধু। সে অনেক টাকা ঋণ করেছে। তাই আমার ভাই টাকা দিয়ে দোকানটি কিনে তাকে সহযোগিতা করেছে।’ তবে এ বিষয়ে চেষ্টা করেও অভিযুক্ত বিক্রেতা ইসমাইল পিরের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়া বলেন, ‘সরকারি খাসজমির দোকান বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। আমি আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights