টাইপিংয়ের সামান্য ভুলেই বড় গড়মিল, হিমশিম খাচ্ছে পেন্টাগন
অনলাইন ডেস্ক
টাইপিংয়ের সামান্য ভুল বা নথিতে অতিরিক্ত শূন্য বসিয়ে দেওয়ার মতো আপাতদৃষ্টে ছোট অপরাধ যে কত বড় অর্থনৈতিক গোলকধাঁধা তৈরি করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগনের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার এক স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। সংখ্যার ০ (শূন্য)-এর জায়গায় ভুলবশত ইংরেজি বর্ণ O টাইপ করার মতো ভুলের কারণে নথিপত্রে হুট করেই বেড়ে গিয়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনীর মোট যানবাহনের সংখ্যা। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ আর্থিক অডিট বা হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করার যে লক্ষ্য পেন্টাগন হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই সামরিক বাহিনীর এই ধরনের নানা তথ্যত্রুটি সামনে আসছে।
প্রতি বছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট পরিচালনা করা পেন্টাগনে ১৯৯০ সালে অডিট আইন পাস হলেও ২০১৮ সাল থেকে টানা আটবার অডিটে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। গত ডিসেম্বরে অষ্টম অডিটে ব্যর্থ হওয়ার পর পেন্টাগন ২০২৮ সালের মধ্যে একটি পরিষ্কার অডিট রিপোর্ট নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দীর্ঘদিনের এই জটিলতা কাটাতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত ১৩শ’টিরও বেশি আলাদা ব্যবসায়ী ও আর্থিক সিস্টেম কমিয়ে বর্তমানে প্রায় ২০০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম একক জায়গায় পর্যবেক্ষণ করতে ‘আর্মি ফিসক্যাল ফ্রন্টলাইন’ নামের একটি আধুনিক ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়। এর মাধ্যমে তথ্য মেলাতে গিয়েই বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা নানান গোলমেলে হিসাব ধরা পড়ে। মার্কিন সেনাবাহিনীর আর্থিক পরিচালনা ও হিসাব বিভাগের পরিচালক নাতাশা অ্যান্ডারসন জানান, যানবাহন মেরামতের তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় কর্মীরা ০ (শূন্য)-এর বদলে O অক্ষরটি টাইপ করায় মূল সিস্টেম সেটিকে বিদ্যমান গাড়ির বদলে একদম নতুন একটি গাড়ি হিসেবে নথিভুক্ত করে। এর ফলে বহরে বাস্তবে যত ট্রাক বা গাড়ি ছিল, নথিপত্রে দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বেশি।
একইভাবে ব্যারাক, হাসপাতাল ও সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথিতে আয়তন বা খরচের তথ্যে অতিরিক্ত শূন্য যুক্ত হওয়া কিংবা বাদ পড়ার কারণে বাজেটের বরাদ্দেও বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হচ্ছিল। এর ফলে যে এলাকা বা ঘাঁটিতে সংস্কারের জন্য যত টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তথ্যের ভুল থাকায় বরাদ্দ মিলছিল অন্য অঙ্কের।
সেনাবাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মার্ক অ্যান্ডারসন জানান, নতুন চালু হওয়া প্রযুক্তির সাহায্যে এখন মাঠপর্যায়ের সেনা ইউনিট থেকে শুরু করে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একই সময়ে রিয়েল-টাইমে সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক চিত্র দেখতে পাচ্ছেন। তবে কেবল ভুল চিহ্নিত করাই শেষ কথা নয়; ভবিষ্যতে এই ধরনের টাইপিং বা মানবিক ভুলগুলো যাতে রেকর্ড হওয়ার আগেই আটকে দেওয়া যায়, সে জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের অডিট চ্যালেঞ্জ পার করতে এখন পুরো ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিরক্ষা বিভাগ।
সূত্র: রয়টার্স
