টাঙ্গাইলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১,২৭৭ শিক্ষক পদ শূন্য
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ১ হাজার ২৭৭টি শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে ৮৩১টি প্রধান শিক্ষক এবং ৪৪৬টি সহকারী শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি জটিলতার কারণে সৃষ্ট এ সংকটে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ৮৩১টি পদ শূন্য থাকায় কর্মরত আছেন মাত্র ৭৯২ জন। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ৯ হাজার ৬০টি পদের মধ্যে ৪৪৬টি খালি থাকায় কর্মরত রয়েছেন ৮ হাজার ৬১৪ জন।
ঘাটাইল উপজেলার খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন জানান, পাঁচজন শিক্ষকের বিপরীতে তাদের বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন শিক্ষকের পক্ষে সব শ্রেণিতে পাঠদান কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাশিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০টি পর্যন্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের শেখার মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষকদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এগিয়ে নিতে সরকার ও সমাজের সব স্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিশেষ করে প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সাময়িকভাবে সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে এবং শূন্যপদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
