টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম। গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রামে কখনো ভারী, কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। ফলে নগরের সড়ক, বাসা-বাড়ি, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণ থমকে গেছে জনজীবন। দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে জলমগ্ন হওয়া এলাকার মানুষদের। কোথাও সড়কের ওপর ভেঙে পড়েছে গাছ। বৈরি আবহাওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষ। সড়কে কমে গেছে গণপরিবহন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আজ সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পতেঙ্গার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত র্পবূবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, এবার যে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে তা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। সম্প্রতি তৈরি হওয়া মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেড়েছে। নিম্নচাপটি এখন ভারতের ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা এলাকায় সরে গেছে, তবু সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
জানা যায়, টানা বৃষ্টির ফলে নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, চকবাজারের তেলেপট্টি গলি, কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়ক, কাজির হাট, হালিশহর, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা, কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে বাসাবাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় গৃহস্থালির মালামালের ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
বহদ্দার হাট এলাকার বাসিন্দান আহমেদ রেজা বলেন, সকালে বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। বৃষ্টির কারণে বাসা থেকেও বের হতে পারিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টানা বৃষ্টির মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় একটি সড়ক ভেঙে গেছে। উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য ওই বাইপাস সড়কটি তৈরি করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টিতে গতকাল রাতে সড়কটি ভেঙে যায়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, পতেঙ্গায় আউটার রিং রোডের সঙ্গে একটি উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ চলছে। এ জন্য একটি বাইপাস সড়ক করা হয়েছিল। সেটি ভেঙে গেছে। তবে এখন মেরামত করা হচ্ছে।
চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী আজকের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এই পরীক্ষা পরবর্তী সময়ে নেওয়া হবে। পরে পরীক্ষার সময়সূচিও জানিয়ে দেওয়া হবে।
