টানা বৃষ্টিতে গোবিন্দগঞ্জে পানির নিচে ৪০ বিঘা আলুর ক্ষেত, ক্ষতির শঙ্কায় কৃষক

সাইফুল মিলন, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে প্রায় ৪০ বিঘা জমির আলুর ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আলু তোলার মৌসুমে ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলুর জমিতে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে নিচু জমিগুলোর আলুর ক্ষেত আংশিকভাবে পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত পানি না সরলে মাটির নিচে থাকা আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রংপুরে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এরপর সকাল ৯টার মধ্যে আরও ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। একই সময়ে গাইবান্ধা জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। আজ শুক্রবারও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলুর জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে মাটির নিচে থাকা আলু দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে অনেক কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বৃষ্টির কারণে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় আলুর জমিতে পানি জমেছে। অনেক জায়গায় নিচু জমির আলুর ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে দ্রুত আলু তোলা না গেলে পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রাজাহার ইউনিয়ন ও শাখাহার ইউনিয়নের কৃষকেরা। কয়েক দশক ধরে এই দুই ইউনিয়নে আলু চাষ হয়ে আসছে। তবে বিরূপ আবহাওয়া ও বাজারে দাম কম থাকায় এমনিতেই হতাশ ছিলেন কৃষকেরা। তার ওপর সাম্প্রতিক বৃষ্টি তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েক দিন ধরেই আলু তোলার কাজ করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। জমি শুকাতে সময় লাগবে। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

আরেক কৃষক ফুল মিয়া বলেন, অনেক জমিতে এখনো আলু তোলা বাকি। বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে সময়ের পাশাপাশি খরচও বাড়বে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোবিন্দগঞ্জে ৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ জন কৃষকের ৪০ বিঘা জমির আলুর ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও আলু তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলার প্রায় ৪০ বিঘা আলুর জমিতে পানি জমেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ বিঘা জমির আলু ইতিমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। বাকি জমিগুলো থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও আলু তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দুই–এক দিনের মধ্যে জমি থেকে আলু তুলে নিতে পারলে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights