টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে বোরো ধানের ক্ষতি, বিপাকে কৃষক

বাগেরহাট প্রতিনিধি

টানা ছয় দিনের ভারী বৃষ্টি ও রোদহীন আবহাওয়ার কারণে বাগেরহাটে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

জেলায় ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া বোরো ধানের একটি বড় অংশ এখনও মাঠে রয়েছে। কোথাও জমিতে থাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও কাটা ধান বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক ধান কাটলেও রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে ধান ঝরে পড়া, পচন ধরা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কচুয়া উপজেলার চরসোনাকুর এলাকার কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, ঋণ করে তিন একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। কিছু ধান কাটলেও রোদ না থাকায় শুকাতে পারছেন না, আর বাকি ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে রয়েছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা গ্রামের এক কৃষক বলেন, বৃষ্টি শুরু হলে দ্রুত শ্রমিক লাগিয়ে ধান কাটতে শুরু করেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। কাটা ধান ভিজে গিয়ে পচন ধরছে।

একই এলাকার কৃষক মেবারক আলী বলেন, সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি তাদের বড় সংকটে ফেলেছে। জলাবদ্ধতায় জমিতে ধান নষ্ট হচ্ছে। সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাগেরহাট কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার হেক্টরের ধান ঘরে তোলা সম্ভব হলেও প্রায় ৫ হাজার হেক্টরের কাটা ধান এখনও মাঠে পড়ে আছে। এছাড়া আরও হাজার হাজার হেক্টরের ধান এখনো কাটা হয়নি।

তিনি বলেন, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জমিতেই প্রায় ১০ শতাংশ ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি কমে রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ কমতে পারে।

এদিকে আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় দিন গুনছেন জেলার কৃষকরা। বোরো মৌসুমের পরিশ্রম ও বিনিয়োগের ফসল কতটা ঘরে উঠবে, তা নিয়েই এখন শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights