টিকটক-ফেসবুকের একটি ভুয়া ভিডিওর জেরে সাগরে ডুবে মরল ৯০ জন!

অনলাইন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছোট্ট একটি গুজব যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার প্রমাণ স্পেনের উত্তর আফ্রিকার সিউটার ছিটমহলের ঘটনা। গত মাসে মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনে ঢোকার চেষ্টায় পানিতে ডুবে অন্তত ৯০ জন অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাণঘাতী সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া খবর।

গুজবটি ছিল—সমুদ্রপথে সাঁতরে সিউটায় পৌঁছাতে পারলে স্পেন সরকার নিয়ম শিথিল করে সবাইকে থাকার অনুমতি দেবে। গত ৩০ জুলাইয়ের গণ-অনুপ্রবেশের দুদিন আগে স্থানীয় পত্রিকা ‘এল ফারো ডি সিউটা’ ভেজা পোশাকে দুই তরুণীর হাসিমুখের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। আরবি ভাষার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে অভিবাসীরা ধরে নেন, সাঁতরে স্পেনে ঢুকে বাধাহীনভাবে ঘোরাফেরা করা খুবই সহজ।

মূলত স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি পুরোনো রায়কে বিকৃত করে এই গুজব ছড়ানো হয়। রায়ে বলা হয়েছিল, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সরাসরি বিতাড়িত না করে আইনি পর্যালোচনার সুযোগ দিতে হবে। অথচ একে ‘স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার’ হিসেবে প্রচার করা হয়। বিশেষজ্ঞ জর্গেন কার্লিংয়ের মতে, আদালতের এই আংশিক সত্যতাই গুজবটিকে মানুষের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

মানবপাচারকারী চক্রগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে নামে। ‘দ্য পাথ টু সিউটা’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাঁতারের ইমোজি দিয়ে ম্যাপ ও বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হতো। মরক্কোর এক মানবাধিকার কর্মকর্তার ১৩ লাখ অনুসারীর অ্যাকাউন্টসহ অন্তত ২১৫টি ফেসবুক পেজ থেকে একই ভুয়া দাবি ছড়ানো হয়।

ইনস্টাগ্রামের এসব ভিডিও দেখেই ১২ কিলোমিটার সাঁতরে সিউটায় পৌঁছান আশরাফ বেন আহমেদ। তিনবার ব্যর্থ হওয়া এই তরুণ বলেন, ‘ভিডিওতে বলা হয়েছিল, তারা সাহায্য করবে, ফেরত পাঠাবে না।’

এদিকে মেটা জানিয়েছে, তারা ভুয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এখনো সক্রিয় থাকা অনেক পেজ এখন নিখোঁজদের স্বজনরা আপনজনদের খুঁজতেই ব্যবহার করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights