ট্যানারি মালিকদের কাছে জিম্মি আড়তদাররা

আজহার মাহমুদ, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে একটি মাত্র ট্যানারি থাকায় এ অঞ্চলের আড়তদাররা কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে ঢাকার ট্যানারিতে বিক্রি করেন। কিন্তু বছরের পর বছর ঢাকার ট্যানারিগুলো বকেয়া পরিশোধ না করায় ২০০ চামড়ার আড়তদার ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে যারা টিকে আছেন, তারাও সরকারনির্ধারিত দামে চামড়া সংগ্রহ করার পর বিভিন্ন সময়ে কম দামে ঢাকার ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। ফলে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে একপ্রকার জিম্মি অবস্থায় আছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা। তাদের ভাষ্য, আসন্ন কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলা থেকে আড়তদাররা গরু, ছাগল মিলিয়ে ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু ইতোমধ্যে লবণের মূল্যবৃদ্ধি, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের পুরোনো বকেয়া পরিশোধ না করায় পুঁজির ঘাটতি, সংগৃহীত চামড়া ক্ষেত্র বিশেষে ক্রয়মূল্যের কমে বিক্রি, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ চামড়ার আড়ত আতুরার ডিপো এলাকায়। কোরবানির ঈদে নগর ও উপজেলা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে এসব আড়তে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আড়তদাররা ঢাকার ট্যানারিগুলোতে পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়াজাত চামড়া বিক্রি করেন। কয়েক বছর ধরে অনেক এতিমখানাও নিজ উদ্যোগে চামড়া সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে আসছে।

আড়তদারদের ভাষ্যমতে, গত বছর প্রতিটি ৭৪ কেজির লবণের বস্তাপ্রতি ৬০০ টাকা থাকলেও বর্তমান বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজি লবণে প্রায় তিন টাকা বেড়েছে। ফলে চামড়াপ্রতি লবণের খরচ বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ৫০০ টাকার বেশি ব্যয় হবে। এ কারণে অনেক চামড়ার আড়তদার ও সংগ্রহকারী বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী-আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রধান উপকরণই হলো কাঁচা লবণ। এবার প্রতি বস্তা লবণের দাম ২০০ টাকা বেড়ে গেছে। ফলে অন্যান্য সংকটের সঙ্গে লবণ নিয়ে নতুন সংকট যুক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রামের আড়তদাররা জানান, ঢাকার আড়তদারদের কাছে ২০১৬-২০ সাল পর্যন্ত ২০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। বকেয়া পরিশোধ না করায় দুই শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদার দেউলিয়া হয়ে গেছেন। এ কারণে একসময় চট্টগ্রামে ২৫০টির বেশি আড়ত থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০টিতে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম চামড়া আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ জানান, চট্টগ্রামের আড়তদাররা সরকারনির্ধারিত দামে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু ঢাকার ট্যানারিগুলো সিন্ডিকেট করে অনেক সময় আড়তদারদের কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করে। আবার সময়মতো টাকাও পরিশোধ কওে না। এ কারণে পরবর্তী বছরগুলোতে পুঁজির সংকটে অনেকেই এই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights