ট্রাম্পকে এভাবে নুইয়ে ফেলল ইরান!
অনলাইন ডেস্ক
ইরান যদি শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয় তবে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানের কাছ থেকে ‘সঠিক উত্তর’ পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একেবারে শেষ সীমায় পৌঁছেছে এবং এটি যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় আকারে উস্কে উঠতে পারে।
জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি সঠিক জবাব না পায়, তবে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে এবং এর জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটি কয়েক দিন হতে পারে, তবে সবকিছুই খুব দ্রুত ঘটবে। ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যেন বড় কোনো রক্তপাত ছাড়াই একটি চুক্তির মাধ্যমে সংকটের সমাধান হয়, অন্যথায় পরিস্থিতি বেশ ‘নোংরা’ রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান স্থগিত করার পর ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ সমাপ্তির আলোচনায় সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ মার্কিন রাজনীতিতেও; নিজ দেশে গ্যাসোলিনের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানও পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও আগ্রাসন চালানো হলে এবার আঞ্চলিক যুদ্ধটি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারবে না, এমন সব স্থানে বিধ্বংসী আঘাত হানা হবে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শান্তি আলোচনার শীর্ষ মুখ মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ এক অডিও বার্তায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আমেরিকার প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে তারা নতুন কোনো আক্রমণের ছক কষছে।
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও সচল রয়েছে। আঙ্কারা জানিয়েছে, ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এরদোয়ান চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে একটি ‘যৌক্তিক সমাধান’ সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তার দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, ইরান যেকোনো আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে, তবে বলপ্রয়োগ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা একটি অলীক কল্পনা মাত্র।
