ট্রাম্পের চীন সফর দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বয়ে আনতে পারে বড় স্বস্তি
অনলাইন ডেস্ক
চীনের বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার শীর্ষ সম্মেলন দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত সুফল বয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের এই কৌশলগত স্থিতিশীলতা সিউলকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে।
জাপানের নাগোয়া ইউনিভার্সিটি অব কমার্স অ্যান্ড বিজনেস-এর সহকারী অধ্যাপক কিম সো-ইয়ং-এর মতে, ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া অপ্রত্যাশিতভাবে লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে শি জিনপিং যদি ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রভাবিত করতে পারেন। তবে তা সিউলের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে আসবে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি মজুত ব্যবস্থায় তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ দেশটি তাদের প্রয়োজনীয় তেল ও গ্যাসের সিংহভাগ এই প্রণালী দিয়েই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে।
এছাড়া, তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেও দক্ষিণ কোরিয়া কড়া নজর রাখবে। কারণ, তাইওয়ান ইস্যুতে যেকোনো পরিবর্তন পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে কিম সো-ইয়ং বলেন, ‘এই শীর্ষ সম্মেলন আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ করে চীনের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।’
চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক কিছুটা শীতল হলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং-এর অধীনে বেইজিংয়ের সাথে সিউলের সম্পর্ক বেশ উন্নত হয়েছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলনের আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনা ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং-এর মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনার জন্য সিউলকেই ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
অধ্যাপক কিম মনে করেন, পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ভবিষ্যতে এ ধরনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে আরও ‘উচ্চতর এবং শক্তিশালী’ করার চেষ্টা করতে পারে।
এর আগে গতকাল বুধবার দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে তাকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বেইজিংয়ে অবতরণ করে। এর আগে প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে তিনি এশিয়ার এই পরাশক্তি দেশটি সফর করেছিলেন।
সূত্র : আল-জাজিরা।
