ট্রাম্পের চুক্তির ইঙ্গিতে কমল জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার লেনদেন শুরু হতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০৩.০৪ ডলারে নেমে আসে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই-এর দাম ৬.৬ শতাংশ কমে ৯৫.৫৫ ডলারে থিতু হয়। মূলত দুই দেশের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খবরের পরেই বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

তবে এখনও যুদ্ধের আগের সময়কার দামের তুলনায় তেলের দাম অনেক উঁচুতেই অবস্থান করছে।

হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি জব্দ করে রাখা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তহবিল ছেড়ে দেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার স্বার্থে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার বিশেষ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা সামরিক পদক্ষেপের অংশ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ৬৬ দিন পর সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি কার্যকর হলেও তেলের সরবরাহ রাতারাতি স্বাভাবিক হবে না। আটকা পড়া শত শত জাহাজ পুনরায় চালু করা এবং বীমা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights