ট্রাম্পের ‘ঝুঁকিপূর্ণ জুয়া’: আগুন নিয়ে খেলতে গিয়ে নিজেই পুড়বেন কি?

অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহরণ করার পর দেশটির শাসনভার সরাসরি পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘অপারেশন অ্যাবসোলুট ডিটারমিনেশন’ নামের এই বিতর্কিত সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প একে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকরা একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। ইরাক ও আফগানিস্তানের তিক্ত অভিজ্ঞতা সামনে এনে বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিদেশি মাটিতে পুতুল সরকার বসানো কিংবা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার-আ-লাগো থেকে এই পুরো অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন, যেখানে তার পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম শুরু করবে। তবে দেশটিতে শান্তি বজায় রাখতে সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা ট্রাম্পের জন্য যতটা সহজ ছিল, এর পরবর্তী অরাজকতা সামলানো ততটাই কঠিন হবে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় অতীতে মার্কিন হস্তক্ষেপের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়।

এদিকে ভেনেজুয়েলার পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নোবেলজয়ী বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে তিনি দেশটির নেতৃত্বের উপযুক্ত মনে করেন না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরো আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যাকে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে রদ্রিগেজ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করে ভেনেজুয়েলাকে কখনো মার্কিন কলোনি হতে দেবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রদ্রিগেজের এই কঠোর অবস্থান সম্ভবত একটি কৌশল মাত্র, যাতে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে মার্কিন অনুগত হিসেবে চিহ্নিত না হন। তবে ভেনেজুয়েলার শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নীরবতা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ ও উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সেনাবাহিনীর আনুগত্য মাদুরোর চেয়েও তাদের নিজস্ব স্বার্থ এবং খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণের ওপর বেশি নির্ভর করে। ফলে সেনাবাহিনীতে বিভক্তি দেখা দিলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মাদুরোর পতনে অনেকে স্বস্তি পেলেও দেশটির ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights