ট্রাম্পের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞার আশংকায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আহবান

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পরদিনই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘ট্র্যাভেল ব্যান’ (ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা) আশংকায় হার্ভার্ড, ইউএসসি এবং কর্নেলের মত বিশ্বখ্যাত ভার্সিটিসমূহের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীগণকে অবিলম্বে ক্যাম্পাসে ফেরার আহবান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রথম মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। সে সবের সাথে এবার যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, চীন, ভারতসহ বেশ কটি রাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি-নির্ধারকদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা’র আওতায় আসতে পারে রাষ্ট্রসমূহের একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে কিরগিস্তান, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার, সুদান, তাঞ্জানিয়া, ইরান, লিবিয়া, নর্থ কোরিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, সোমালিয়া, ভারত, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লার্নিং অফিস গত সপ্তাহে ওয়েবসাইটে এমন সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে। তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছে ২১ জানুয়ারি শুরু হবে স্প্রিং-সেমিস্টারের ক্লাস। তার আগেই যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার পক্ষ থেকেও একই আহবান উচ্চারিত হয়েছে। তারা বলেছে, মুসলিম অধ্যুষিত দেশসমূহের নাগরিকগণের ভিসা প্রসেসিংয়ের সময়ও বাড়তে পারে। তাই আগে ভাগেই যেন তারা সবকিছু সম্পন্ন করেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে যে, জানুয়ারিতে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র স্মরণে ছুটি শুরুর আগেই যেন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসেচুসেটস, এমআইটি, ইউপেন, ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটিও একই ধরনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীগণের জন্যে। তারা মনে করছে যে, প্রথম মেয়াদের চেয়েও কঠিন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে দ্বিতীয় মেয়াদে। এমনকি, গাজা উপত্যকার মত যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এবং আফগানিস্তান, সিরিয়া, পাকিস্তানের মতো দেশসমূহের ক্ষেত্রেও আসতে পারে নানা নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষা বর্ষে আমেরিকার কলেজ-ভার্সিটিসমূহে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিল ১১ লাখের অধিক। এর অধিকাংশই চীন আর ভারতের।

তৃতীয় বৃহৎ হচ্ছে সাউথ কোরিয়া। স্মরণ করা যেতে পারে, প্রথম মেয়াদে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলো না বাংলাদেশ। তবে এবার নানা কারণে বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্প যে ধরনের অভিব্যক্তি ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে সচেতন প্রবাসীরা আশংকা করছেন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights