ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর কানাডার সদস্যপদ নিয়ে পিছু হটল ইইউ?

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে কানাডাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে জোটটি। এ বিষয়ে কানাডা ও ইইউর যৌথ ঘোষণার খসড়া থেকে ‘সহযোগী সদস্য’ ও ‘সহযোগী সদস্যপদ’-এই শব্দগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ ও ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আয়োজনে বৃহস্পতিবার মন্ট্রিলে ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। সম্মেলন সামনে রেখে প্রস্তুত করা যৌথ ঘোষণাটি শুক্রবার প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন কানাডাকে ২৭ সদস্যের ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও কানাডা যখন নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতা পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করছে, তখন এই প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

তবে কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও ডিপিএ জানিয়েছে, প্রস্তাবটি ইইউর সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি করে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসসহ কয়েকটি দেশের নেতা সম্মেলনের ঘোষণার খসড়া থেকে সহযোগী সদস্যপদের বিষয়টি বাদ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।

পরিবর্তিত খসড়ায় কানাডা ও ইইউর মধ্যে ‘আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ, কানাডা ও এশিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন সমুদ্রতলদেশীয় কেবল অবকাঠামো নির্মাণের যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া কানাডা থেকে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে যৌথ সমীক্ষা এবং আটলান্টিকের দুই পারে তরুণ কানাডীয় ও ইউরোপীয়দের কাজের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

ট্রাম্প কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত নির্ভরতা কমানো কার্নির কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা।

কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার হওয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

এর আগে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাবকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করলে ইউরোপের সঙ্গে অনেক বিষয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কার্নি বলেন, আসন্ন সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ইইউ ও কানাডার মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে, যা সম্পন্ন হতে আরও এক বছর লাগতে পারে। তার ভাষায়, সদস্যপদের নাম বা পরিভাষা কী হবে, তা বড় বিষয় নয়; বরং কানাডার মানুষের জীবনে এই সম্পর্ক কী পরিবর্তন আনবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights