ট্রাম্পের হুমকিতেও অনড় ইরান, ইউরেনিয়াম হাতছাড়া না করার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে জোর আলোচনার মাঝেই নিজেদের অনমনীয় অবস্থানের কথা সাফ জানিয়ে দিল ইরান। দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ইব্রাহিম আজিজি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে বা অন্য কোনো তৃতীয় রাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হবে না।

রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই মন্তব্য করেন, যা পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্র-সংযুক্ত মিজান নিউজ এজেন্সি প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে তেহরান এবং ওয়াশিংটন একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন চলছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তির পরও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে—সেই জটিল প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং এটি পরবর্তী দফার আলোচনার একটি মূল অংশ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত পরবর্তী আলোচনাগুলো ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ-সমৃদ্ধ প্রায় এক হাজার পাউন্ড ইউরেনিয়ামের মজুতের ওপর আলোকপাত করবে। ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তারা কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে না এবং তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তবে নিজেদের কষ্টার্জিত ইউরেনিয়ামের এই বিশাল মজুত তারা কোনোভাবেই হাতছাড়া করবে না।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এই সাময়িক সমঝোতা স্মারকে শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুই দেশ বর্তমানে চুক্তির খসড়ার বেশ কয়েকটি নীতিগত ও ভাষাগত পয়েন্ট নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে তা স্বীকার করলেও ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মতো কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রধান বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে চরম মতপার্থক্য ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক হুঁশিয়ারিতে বলেছিলেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরানের ভেতর থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে নিয়ে আসা হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন গত মার্চ মাসেই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদ ও পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সে এই ধরনের একটি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের নানামুখী বিকল্প পর্যালোচনা করে দেখেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে গেলে শত শত বা হাজার হাজার মার্কিন সেনার প্রয়োজন হতে পারে এবং এতে দুই পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানির মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। তা ছাড়া ওই তেজস্ক্রিয় পদার্থ সুরক্ষিতভাবে নাড়াচাড়া করার জন্য বিশেষায়িত বাহিনী ও আধুনিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পাশাপাশি মার্কিন সেনাদের কাজের পরিবেশ তৈরির জন্য যে বিশাল নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়তে হবে, তার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এক বিশাল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights