ট্রাম্পের হুমকির পর সংলাপের আহ্বান জানালেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার সামরিক বিমানগুলো যদি মার্কিন বাহিনীর জন্য বিপদ ডেকে আনে, তাহলে সেগুলো গুলি করে ভূপাতিত করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হুমকির কয়েক ঘণ্টা পরই সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

ভেনিজুয়েলার একটি মাদক পাচারকারী নৌকায় মার্কিন হামলার পর ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনিজুয়েলার জাহাজ চলাচলে পেন্টাগনের অভিযোগের পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

ভেনেজুয়েলার সকল রেডিও এবং টেলিভিশন নেটওয়ার্কে সম্প্রচারিত এক বার্তায় মাদুরো বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে এবং যা আগে ছিল তার কোনোটিই সামরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে না।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলা সবসময় কথা বলতে, সংলাপে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু আমরা সম্মান দাবি করি’।

উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন পুয়ের্তো রিকোতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে।

ট্রাম্প মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ানোর সাথে সাথে দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যেই উপস্থিত মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ১০টি বিমান যোগ দেবে। মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকা মাদক পাচারকারী চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তবে মাদুরো তার সন্ধ্যার ভাষণে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মাদুরো বলেছেন, ‘তারা (ট্রাম্প) যে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো দেয় তা সত্য নয়। ভেনেজুয়েলা আজ কোকা পাতা উৎপাদন, কোকেন মুক্ত একটি দেশ এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এমন একটি দেশ।’

গত শুক্রবার ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ভেনেজুয়েলার জেটগুলো মার্কিন জাহাজের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে তিনি কী পদক্ষেপ নেবেন। তখন তিনি বলেছেন ‘যদি তারা আমাদের বিপজ্জনক অবস্থানে ফেলে, তবে তাদের গুলি করে ভূপাতিত করা হবে।’

মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি কথিত মাদকবাহী নৌকা উড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, এটি ভেনেজুয়েলার একটি অপরাধী সংগঠন ট্রেন ডি আরাগুয়া। মাদুরো এর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১১ জনকে হত্যা করেছে।

বিষয়টির সাথে পরিচিত মার্কিন একটি সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এএফপি’কে জানিয়েছে, উচ্চ প্রযুক্তির এফ-৩৫ জেটগুলো ত্রিশ লক্ষেরও বেশি লোকের মার্কিন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ পুয়ের্তো রিকোর একটি বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হচ্ছে।

মাদুরো একজন বামপন্থী ফায়ারব্র্যান্ড, তার ২০২৪ সালে শেষ নির্বাচন ওয়াশিংটন অবৈধ বলে মনে করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকিকে ‘গত ১০০ বছরে আমাদের মহাদেশের দেখা সবচেয়ে বড় হুমকি’ বলে নিন্দা করেছেন।

মাদুরো ‘জাতীয় ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য তার দেশকে প্রস্তুত ঘোষণা করে তিনি ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর ৩ লাখ ৪০ হাজার এবং রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েন করেছেন।

এদিকে, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার মাদুরোকে ‘অভিযুক্ত মাদক পাচারকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলা একটি ‘ড্রাগ কার্টেল একটি মাদক পাচারকারী সংগঠন’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

মার্কিন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এই সপ্তাহে জানিয়েছেন, বর্তমানে ল্যাটিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী প্রচেষ্টায় আটটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ জড়িত রয়েছে, তিনটি উভচর আক্রমণকারী জাহাজ, দু’টি ডেস্ট্রয়ার, একটি ক্রুজার এবং ক্যারিবিয়ানে একটি লিটোরাল যুদ্ধ জাহাজ এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি ডেস্ট্রয়ার।

সূত্র : এএফপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights