ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা, ইরানে আগে হামলা করবে ইসরায়েল?

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টারা নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পলিটিকো জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র নিজে সরাসরি আগে আক্রমণ না করে যদি ইসরায়েল প্রথমে ইরানে হামলা চালায়, তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশি সুবিধাজনক হবে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের যুক্তি হলো, ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান যখন পাল্টা আঘাত হানবে, তখন মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জোরালো জনসমর্থন তৈরি হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন চাচ্ছে ইরানই যেন উস্কানিদাতা হিসেবে সামনে আসে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো অজুহাত পায়।

এমন এক সময়ে এই খবর সামনে এলো যখন আজ বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনাকে কূটনীতির শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি তেহরানের ওপর ক্রমাগত চাপ বজায় রাখছে। গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ট্রাম্পের নির্দেশে হামলার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি বর্তমানে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে তেহরান এখনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সিদ্ধান্তে অটল আছে। অন্যদিকে ট্রাম্প চাইছেন ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও গত মাসের গণবিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশটিকে একটি কঠোর চুক্তিতে বাধ্য করতে।

এদিকে সংঘাত শুরু হলে ভয়াবহ পরিস্থিতির হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ওই অঞ্চলে মোতায়েন হাজার হাজার মার্কিন সেনার জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, ইরান এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি নতুন করে শুরু করেনি, তবে তারা নিজেদের এমনভাবে প্রস্তুত রাখছে যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ামাত্রই তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করলেও তারা ক্রমাগত সেই সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আন্না কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের চিন্তাভাবনা নিয়ে সংবাদমাধ্যম অনেক জল্পনা করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ কী হবে তা কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই জানেন।

সূত্র: আশার্ক আল আওসাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights