ট্রাম্প বিজয়ী হলে যার হাত ধরে ফিরতে পারে বাণিজ্যযুদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক

ট্রাম্প যদি আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাহলে ৭৭ বছর বয়সী রবার্ট লাইথাইজারকে সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী কিংবা শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে ভাবা হচ্ছে। সুরক্ষাবাদী বাণিজ্যনীতির জন্য তার সুদীর্ঘ পরিচিতি রয়েছে।

লাইথাইজারের আনুষ্ঠানিক ভূমিকা যা-ই হোক, ট্রাম্পের উদ্ভট আবেগকে দূরে সরিয়ে রেখে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি তার ওপরই সম্ভবত বর্তাবে। আর সেটা হলো, চীনের মতো অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর পাশাপাশি অনেক বন্ধুপ্রতিম দেশের ওপর কঠোর শুল্কারোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পোৎপাদন বাড়ানো।

২০১৭ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যুক্ত হন রবার্ট লাইথাইজার। তিনি একজন আন্তর্জাতিক আইনজীবী, যিনি মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যসম্পর্কিত মামলায় লড়ে থাকেন। তিনি এসে ট্রাম্পের আমলের মঙ্গলবারের সভাগুলোতে বাগ্‌যুদ্ধের মাত্রা কমিয়ে আনেন বলে জানান তখনকার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি উপদেষ্টা চার্লি কুপারম্যান। ব্যবসা-বাণিজ্যসম্পর্কিত আইনের বিষয়ে জানাশোনা থাকার ফলে লাইথাইজার কাজটি করতে সক্ষম হন। তিনি দুই মেরুতে থাকা মুনচিন ও নাভারোকে মাঝামাঝি অবস্থানে নিয়ে আসেন।
লাইথাইজার ইতোমধ্যে ওয়াল স্ট্রিটের আর্থিক খাতের কর্মকর্তাদের বলে দিয়েছেন, ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে জিতলে এর পরপরই নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্কারোপ করা হবে।

অনেক অর্থনীতিবিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিস বলছেন, ট্রাম্পের প্রচারশিবির চীনা পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি আমদানি শুল্ক এবং অন্যসব আমদানি পণ্যের ওপর ১০-২০ শতাংশ হারে যে শুল্কারোপের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা বাস্তবায়িত হলে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, অর্থনীতি সংকুচিত হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের আয়কর থেকে আয়ের জায়গাটি শুল্ক রাজস্ব দিয়ে পূরণের চিন্তা অবাস্তব। আর এটি অর্থনীতিতে মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সম্ভাব্য অনেক উপদেষ্টাদের মতো নন লাইথাইজার। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এই নিবন্ধের জন্য বক্তব্য নেওয়া অর্ধডজন ব্যক্তি বলেছেন, তিনি পরিপক্ব ও বুদ্ধিমান মানুষ। কিন্তু লাইথাইজারের সুরক্ষাবাদী বাণিজ্যনীতির প্রতি আগ্রহী হওয়ার অর্থ হলো, তাঁর নেতার অনেক বাড়াবাড়িকে উপেক্ষা করা।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights