ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ ছাত্রদলের

অনলাইন প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

বিবৃতিতে ছাত্রদল অভিযোগ করে, মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এ ধরনের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিবির-নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণ আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তানপ্রেম’ প্রকাশ করছে।

ছাত্রদল আরও অভিযোগ করে, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা ডাকসুকে নিজেদের দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ ডাকসুর সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে সমালোচিত মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

এতে আরও বলা হয়, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়ারও দাবি জানায় ছাত্রদল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জিন্নাহর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছিল, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights