ডিসেম্বরে শেষ করা নিয়ে সংশয়
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নগরের জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে তিনটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। দু-তিন দফা সময় বৃদ্ধি করে চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্প তিনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে না। এরই মধ্যে সিডিএর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আগামী ডিসেম্বরের আগেই তিনটি প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ঘোষণা করেছেন। তবে ডিসেম্বরের আগে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় আছে বলে জানা যায়। জানা যায়, ১৭ জুন সিডিএর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণ করে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে পরিচিতি সভায় বলেছিলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের আগেই চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীতীরবর্তী কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। প্রকল্পগুলো চালু হলে নগরবাসী সরাসরি এর সুফল ভোগ করবে।’
তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনটি প্রকল্পের এখনো অনেক কাজ বাকি। ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার সম্ভাবনা খুবই কম। এর মধ্যে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পে ৩৬টি খালের মধ্যে ১৯টির কাজ সম্পন্ন হলেও পাঁচটির কাজ শেষ হয়নি। বাকি আছে খালসংলগ্ন সড়ক নির্মাণ। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। তা ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য ৯টি র্যাম্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। জিইসি মোড়ের র্যাম্পটির কাজ আটকে আছে মাঝপথে। টাইগার পাসের র্যাম্পটি তৈরি হলেও সংযোগ সড়কের জটিলতায় বন্ধ। আগ্রাবাদ থেকে ওঠার র্যাম্পের কাজ শুরু হয়নি। নিমতলা মোড়ের দুটি র্যাম্পের কাজ শেষ হলেও টোল বক্স না থাকায় চালু করা হয়নি। ফকিরহাটে নামার র্যাম্পের মুখে বন্দর থানার জেটি পুলিশ ফাঁড়িটি সরিয়ে না নেওয়ায় আটকে আছে কাজ। সিইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকার র্যাম্পগুলোর কাজ চলছে ধীরগতিতে। ফলে এক্সপ্রেসওয়ের আশানুরূপ সুফলও মিলছে না। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীতীরবর্তী কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক প্রকল্পের কাজের বর্তমান অগ্রগতি ৮২ শতাংশ। বাকি আছে সড়ক সংস্কার-উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ।
সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করা হবে। তবে জলাবদ্ধতা এবং চাক্তাই-কালুরঘাট প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না। এ দুটি প্রকল্পে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হবে। বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা প্রকল্প দুটির কাজ বিভিন্ন সময় বন্ধ ছিল। তাই যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।’
সিডিএর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৭ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। তিন বছর মেয়াদে প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এরই মধ্যে তিন দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার কথা। বর্তমানে এটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে ‘লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি’ ২০১৭ সালে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় ও তিন বছর মেয়াদে ২০২২ সালের জুনে শেষ করার কথা। কিন্তু প্রকল্পটি ব্যয় দুই দফা সংশোধনের পর ব্যয় ৪ হাজার ৩১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ করার কথা। কাজের অনেক কিছুই বাকি রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে এ উড়ালসড়ক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে যানবাহন চলবে ৬৬ হাজার ৩২৩টি। কিন্তু বাস্তবে ওই বছর চলেছে মাত্র ৮ হাজার ১২১টি। উড়ালসড়কটি ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয়।
