ঢাবির রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট নির্বাচন ৪ মার্চ থেকে, নেই বিএনপি-জামায়াতের প্যানেল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

আগামী ৪ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন। এর মধ্যে ৪, ১১ ও ১৪ মার্চ ঢাকার বাইরে দেশব্যাপী ৪২টি কেন্দ্রে এবং ১৮ মার্চ ঢাকার চারটি কেন্দ্রে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ মার্চ ঘোষণা নির্বাচনের ফলাফল করা হবে।

নির্বাচনে অংশ নিতে ৬৮ জন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। তবে গত ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনী পরিবেশ না থাকা, প্রার্থীদের হয়রানি ও গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন ২৫ জন প্রার্থী। ফলে প্রার্থী সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৪৩-এ। এর মধ্যে প্যানেল হিসেবে অংশ নিচ্ছে আওয়ামীপন্থি ‘গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদে’র ২৫ প্রার্থী। নির্বাচনে অংশই নেয়নি বিএনপি বা বামধারার কোনো প্যানেল। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নয়জন একসাথে ‘টিম অপরাজেয়’ নামে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে, প্যানেল বা ব্যক্তিগত ভোটের সংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। নানা উপায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তারা।
জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ফোরাম সিনেট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩ অনুযায়ী, ১০৫ জন সদস্য নিয়ে এ ফোরাম গঠিত হয়। এর মধ্যে সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে ২৫ জন নিবন্ধিত গ্রাজুয়েট অন্তর্ভুক্তির বিধান আছে। সিনেট সদস্যরা তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন। তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এক বছরের জন্য নির্বাচিত হন। এ বছর মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯ হাজার ৩১৫ জন।

এ বছর গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদ প্যানেলে প্রার্থী হিসেবে আছেন অধ্যাপক ড. অসীম কুমার সরকার, অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন, এ আর এম মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, এ এইচ এম এনামুল হক চৌধুরী (খসরু), অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, এসএম বাহালুল মজনুন চুন্নু, অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, নিজাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. নুজহাত চৌধুরী, মির্জা মো. আব্দুল বাসেত, অ্যাডভোকেট মো. সফিক উল্যাহ, অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল বারী, মোহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ বাবলু, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. অহিদুজ্জামান, মো. আতাউর রহমান প্রধান, অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. নাসিরউদ্দীন মুন্সী, মো. মুরশেদুল কবীর, রঞ্জিত কুমার সাহা, অধ্যাপক ড. শারমিন মুসা, অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান এবং অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার।

প্রচারণার বিষয়ে অধ্যাপক ড. অসীম কুমার সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা ভোটারদের স্থায়ী ঠিকানায় আমাদের প্যানেলের পরিচিতি ও ইশতেহার পাঠিয়েছি। এছাড়া সারা দেশ ঘুরে ব্যক্তিগতভাবে সবার সাথে যোগাযোগ করছি এবং প্যানেলের সবার জন্য ভোট চাচ্ছি। আমরা আশাবাদী, আমরা পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হবো।

এদিকে, বিএনপিপন্থি প্যানেল নির্বাচনে না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, সাধারণত কেন্দ্রীয় বিএনপি সাদা দলের সাথে সমন্বয় করে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট নির্বাচনে প্যানেল দেয়। এ বছর যেহেতু বিএনপি সারাদেশে কোথাও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তাই রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট নির্বাচনেও তারা অংশ নিচ্ছে না। আমরাও তাদের সাথে একমত হয়েছি।

‘টিম অপরাজেয়’ এর অধীনে নির্বাচন করছেন ব্যারিস্টার কামরুন মাহমুদ, জাকির হোসেন খান, মোখলেছুর রহমান, মো. মাহবুবুর রহমান, ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম, শেখ ইয়ার আহমেদ, অ্যাডভোকেট শেখ গোলাম মাহমুদ, অধ্যাপক এস এম মুজাহিদুল ইসলাম এবং সৈয়দ এ মু’মেন। জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম বলেন, এটাই আমাদের প্রথম নির্বাচনী অভিজ্ঞতা। ভোটাররা যদি মনে করেন, তারা নতুনদের সুযোগ দেবেন, তবে আমরা ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিতে পারব। জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

গণতান্ত্রিক এক্য পরিষদ ও টিম অপরাজেয় এর বাইরে আরও ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সর্বশেষ রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট নির্বাচন হয়েছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে। সে বছর আওয়ামীপন্থি ‘গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদ’, বিএনপি ও জামায়াতপন্থি প্রার্থী ‘জাতীয়তাবাদী পরিষদ’ এবং বামপন্থি ‘প্রগতিশীল পরিষদ’, তিন প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights