তথ্য ফাঁস এড়াতে জাপানের নিরাপত্তা প্যাকেজ ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক
শীর্ষ কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাগুলোতে বড় ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার উদ্ধারকারী দল ব্যবহারের সমন্বয়ে একটি জরুরি সাইবার নিরাপত্তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে জাপান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সানায়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চালানো সাইবার আক্রমণের এই যুগে যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে দ্রুত সাড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
বেশ কিছু কোম্পানি ও সরকারি সংস্থার সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ এবং গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই জরুরি প্যাকেজটি আনা হয়েছে, যা পুরো জাপানে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাকাইচি বলেন, বর্তমানে অননুমোদিত প্রবেশ ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং করপোরেট কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। আসুন সরকারি সব সম্পদ কাজে লাগিয়ে পুরো জাপানে আমাদের সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করি।
১০ বিলিয়ন ইয়েন (৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের এই প্যাকেজে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা। যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাত একে অপরের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করবে, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা প্রদান করবে এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এর লক্ষ্য হলো বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা অর্জন করা।
সরকার ‘অ্যাক্টিভ সাইবার ডিফেন্স’ বা ‘সক্রিয় সাইবার প্রতিরক্ষা’ কৌশলের অংশ হিসেবে হ্যাকারদের ব্যবহৃত সার্ভারে প্রবেশের সক্ষমতা বাড়াবে। এই কৌশলটি গত অক্টোবরে আইনত বৈধ করা হয়েছে। জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি তৈরি হলে, সরকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় পুলিশ সংস্থা এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সহায়তা দল মোতায়েন করবে।
এই প্যাকেজের আওতায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় নভেম্বরের শেষ নাগাদ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি অত্যন্ত দক্ষ বা ‘টপ গান’ দল গঠন করবে। এই দলের সদস্যরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হ্যাকারদের মোকাবিলা এবং নেটওয়ার্ক সিস্টেমের দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করবেন। জাপানের নিরাপত্তা বিষয়ক দক্ষতা যেন সবসময় যুগোপযোগী থাকে, তা নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এবং মিত্র দেশগুলোর উন্নত এআই ডেভেলপারদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ‘সাইবার উদ্ধারকারী দল’ (সাইবার রেসকিউ টিম) গঠন করা হবে, যারা সাইবার আক্রমণের শিকার কোম্পানিগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা কোম্পানিগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে আরেকটি আলাদা দল কাজ করবে।
সূত্র: আসোসিয়েটেড প্রেস।
