তারকার ঝলকের বিশ্বকাপে স্পেন দেখাচ্ছে দলগত ফুটবলের শক্তি

অনলাইন ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, জুড বেলিংহ্যামদের মতো তারকাদের নিয়েই যত আলোচনা। কিন্তু স্পেন দেখিয়ে দিয়েছে, শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি একক কোনো তারকা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত দল।

ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর স্পেনের ড্রেসিংরুমে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে খেলোয়াড়দের বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বের সেরা একাদশের মুখোমুখি হচ্ছি, কিন্তু বিশ্বের সেরা দল আমরাই।’ মাঠে নেমে সেই কথারই প্রমাণ দিয়েছে স্পেন।

ম্যাচ শেষে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া উচ্ছ্বাসে বলে ওঠেন, ‘কী অসাধারণ প্রদর্শনী!’ স্পেনের জয় উদযাপনে যোগ দেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ ফেলিপেও। ফোনে কোচকে অভিনন্দন জানান তিনি।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সাধারণত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের হয়। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্স যেন নিজেদের খুঁজেই পায়নি। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসেদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচে কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। পরিসংখ্যানও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। ফ্রান্স ম্যাচের শেষ ভাগের আগে লক্ষ্যে কোনো শটই রাখতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টে গড়ে ২.৪ এক্সজি তৈরি করা দলটি স্পেনের বিপক্ষে নেমে আসে মাত্র ০.৩১-এ। বিপরীতে স্পেন তৈরি করে ১.৭ এক্সজি।

এই বিশ্বকাপে লামিনে ইয়ামাল ও এমবাপ্পের দ্বৈরথ নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, স্পেনের সাফল্যের ভিত্তি ছিল দলগত ফুটবল। দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচের আগে ইয়ামালকে বলেছিলেন, অযথা চাপ না নিয়ে পরিকল্পনা মেনে খেলতে। ফলে ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেননি, বলও খুব কম হারিয়েছেন। সেটিই ছিল স্পেনের কৌশলের অংশ।

রদ্রি মাঝমাঠে ফ্রান্সের পুরো খেলাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি একাই ফ্রান্সের পুরো দলের চেয়ে বেশি দ্বৈরথ জিতেছেন এবং সবচেয়ে বেশি পাস দিয়েছেন। দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইজ, মিকেল ওইয়ারসাবাল, পাও কুবার্সি, কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোররো প্রত্যেকেই নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। বিশেষ করে পোররোর গোলটি শুরু হয়েছিল স্পেনের নিজেদের ডিফেন্স থেকে, যা দলটির সংগঠিত ও ধৈর্যশীল ফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠে।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেরা ছন্দে পৌঁছানো। ফ্রান্সকে কীভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হবে, আমরা জানতাম। তবে কৌশল কাগজে লেখা যায়, সেটিকে মাঠে বাস্তবায়ন করে খেলোয়াড়রাই।

২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো জেতা কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতার ফল হিসেবে ২০২৪ ইউরো, ২০২৫ নেশনস লিগের পর এবার বিশ্বকাপের ফাইনালেও জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।

স্পেনের এই দলটি আবারও প্রমাণ করেছে ফুটবলে ব্যক্তিগত প্রতিভা যতই উজ্জ্বল হোক, শেষ পর্যন্ত শিরোপার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো দলগত ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights