তালগাছ লাগানো সেই শিক্ষক পেলেন জাতীয় পুরস্কার
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা
৫৬ বছর ধরে তালগাছ লাগানো শিক্ষক প্রফেসর এনামুল হক খানকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলো বাংলাদেশ প্রতিদিন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি শনিবারের সকাল পাতায় ও একই সময়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার সংবাদটি প্রকাশ পায়। সেই সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় পুরস্কার পেলেন প্রফেসর এনামুল হক খান। গত ৯ আগস্ট ঢাকা বন ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট সনদ ও চেক তুলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
সংবাদটি বনবিভাগের নজরে এলে তারা বিষয়টি নিয়ে আবেদনে উদ্বুদ্ধ করেন এনামুল হক খানকে। পুরস্কার পেয়ে এনামুল হক খান তাল বীজ লাগানো টিম,বন বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রফেসর এনামুল হক খান। ১৯৬৬-৬৭ সাল। তখন তিনি হাইস্কুলে পড়েন। পাশের ধনুয়াখলা গ্রামে বজ্রপাতে একদিনে ৮ জন মানুষ মারা যান। বিষয়টি তাকে খুব নাড়া দেয়। ১৯৬৯ সাল থেকে তিনি গ্রামের সড়কের পাশে তালের বীজ লাগানো শুরু করেন। নিজের বাড়ির পাশে, জমির পাশে ও সরকারি সড়কের পাশে সহস্রাধিক তাল বীজ লাগান। কর্মজীবন থেকে অবসরে এসে তার তাল গাছ লাগানো নিয়ে আরো উদ্যোম বেড়ে যায়।
২০২২ সাল থেকে তার ইউনিয়নের ৩৪টি গ্রামের ৩২ কিলোমিটার সড়কে তালের বীজ লাগানো শুরু করেছেন। গত চার বছরে এলাকার ২৬টি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের নিয়ে লাগান ৩০ হাজার তাল বীজ।
সাবেক অধ্যক্ষ ৭০ বছর বয়সী প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খান বলেন, শৈশব থেকে বাড়িতে ও গ্রামের সড়কের পাশে তালের বীজ লাগাই। এখন অবসরে আছি। মা-বাবার নামে আবেদা- আশরাফ ফাউন্ডেশন ও আশরাফিয়া নুরানি হিফজুল কোরআন মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি।
এই প্রতিষ্ঠান গুলোর উদ্যোগে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে বড় আকারে তালের বীজ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করি। এই এলাকার ব্রজপাতে মৃত্যুর হার কমাতে এক লাখ তালের বীজ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, পুরস্কারের জন্য কাজ করিনি। স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও মানুষের সেবার জন্য এই কাজ করেছি। এই কাজকে বাংলাদেশ প্রতিদিন সবার সামনে নিয়ে এসেছে। তাই পুরস্কার পেয়েছি। এই পুরস্কার আমার কাজের গতিকে আরও বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
কুমিল্লা বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার দিলীপ কুমার দাস বলেন, তাল গাছ বজ্রপাত প্রতিরোধ করে, এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়। প্রফেসর মোহাম্মদ এনামুল হক খানের তালের বীজ লাগানোর উদ্যোগটি অত্যন্ত চমৎকার বিষয়। তার পুরস্কার
প্রাপ্তিতে কুমিল্লা বন বিভাগ আনন্দিত।
