তিতাসে খনন চলছে নতুন তিন কূপের, দিনে মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের মাঝে অবশেষে মিলেছে স্বস্তির এক দারুণ খবর। এবার আশা ও সম্ভাবনার নতুন আলো ছড়াচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র তিতাস। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৪ কোটি ঘনফুট নতুন গ্যাস।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের তিনটি নতুন কূপ থেকে এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহের জোর প্রস্তুতি চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন খনন করা ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে এই গ্যাস উত্তোলিত হবে। এর মধ্যে ২৯ নম্বর কূপটির খননকাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই কূপের গ্যাস সরাসরি চলে যাবে জাতীয় গ্রিডে। এছাড়া ৩১ নম্বর কূপটির খননকাজও এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
দেশের মোট উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২৭ শতাংশ জোগান দেওয়া বিজিএফসিএলের এই নতুন সাফল্য চলমান বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের স্বস্তি আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল ৩১ নম্বর কূপের খনন শুরু হয়। এটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ। দেশের সবচেয়ে উচ্চচাপ ও উচ্চতাপ সম্পন্ন ৩১ নম্বর কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন শুরু হয়। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন শেষ হয়েছে। এই কূপ এলাকায় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকার আশা সংশ্লিষ্টদের। চলতি বছরেই কূপটির খনন শেষ করে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের আশা করছে বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিজিবিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদনে থাকা তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে তিতাস ১ নম্বর কূপটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। এটিই দেশের সবচেয়ে গভীর কূপ। তবে বিদ্যমান কূপগুলোতে গ্যাসের মজুত এবং চাপ কমার ফলে ক্রমশ কমছে উৎপাদন।
উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের খনন প্রকল্প গ্রহণ করে বিজিএফসিএল। ইতোমধ্যে ২৯ নম্বর কূপের খনন শেষ হয়েছে। শীঘ্রই ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু হবে। আর ৩১ নম্বর কূপের খনন কাজও চলতি বছরেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, এরইমধ্যে ২৯ নম্বর কূপটির খনন শেষ হয়েছে। ২৯ নম্বর কূপের রিগ দিয়েই ৩০ নম্বর কূপের খনন শুরু হবে শীঘ্রই। আর ৩১ নম্বর কূপের খনন শেষ হতে আরও তিন মাস লাগবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তিতাসে এ পর্যন্ত আমরা ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করেছি। এর নিচে কী আছে তা আমরা জানি না। এখন যেহেতু দেশে জ্বালানি সংকট চলছে এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও চাইছেন গভীরতম স্তরে কী আছে, সেটা বের করার জন্য। এজন্যই ৩১ নম্বর কূপটি খনন করা হচ্ছে। আমাদের সার্ভে অনুযায়ী এখানে ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন তিনটি কূপের খনন শেষ হবে এবং জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। আমাদের চাহিদার তুলনায় এই গ্যাস খুব বেশি সেটা বলা যাবে না।
তবে এখন আমাদের দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা এই পরিমাণ গ্যাস এলএনজি থেকে কাট করতে পারব। তিতাস ছাড়াও বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোতেও নতুন কূপ খনন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে সেগুলো খনন করা হবে।
