তিন দাবিতে বরিশালের সকল আদালত বর্জন আইনজীবীদের, ভোগান্তিতে বিচার প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

তিন দাবিতে বরিশালের সকল আদালত বর্জন করেছে আইনজীবী সমিতি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বর্জন কর্মসূচি শুরু করা হয়। আইনজীবীদের বর্জনের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচার প্রার্থীরা।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি নাজিমউদ্দিন আহমেদ পান্না বলেন, বরিশাল বারের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গতকাল গ্রেফতার করেছে। অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তার অধীনস্ত কর্মচারীকে দিয়ে আমিসহ (পান্না) অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছে। তার প্রতিবাদে গতকাল ছিল দুইটি আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বরিশালের সকল আদালত বর্জনের কর্মসূচি চলছে।

বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে বলেন, বড় একটা মঙ্গলের জন্য ছোট ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিতে হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারকরা ফ্যাসিবাদকে জামিন দিয়েছে। তার প্রতিবাদ করায় বারের সভাপতিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সাধারণ মানুষ গ্রেফতার করার বিধান নাই। সেখানে বারের সভাপতিকে তার কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোর্ট বর্জন চলবে। মামলার আসামি হিসেবে ফ্যাসিবাদের কোর্ট থেকে জামিন নেয়া হবে না। আমরাও ভিতরে থাকতে চাই।

ঢাকা থেকে মামলার হাজিরা দিতে আসা মো. মনির বলেন, ঢাকা থেকে এসে যদি সমস্যার সমাধান না হয়। তাহলে আমরা তো বিপদে পড়ব। আমি চাই সভাপতি যদি ভালো হন, তাকে মুক্তি দিয়ে কোর্ট চলার ব্যবস্থা করা হোক।

আন্দোলন করার কারণে কোর্ট চলছে না জানিয়ে বিচার প্রার্থী নারী সালেহা বেগম বলেন, মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক থেকে এসেছি। বসে আছি কোর্ট খোলার অপেক্ষায়। অনেক দূরে তো চলে গেলে আসব কিভাবে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন বলেন, আপাতত আমরা আদালত বর্জন কর্মসূচিতে আছি। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে একটি সমঝোতার কথাও চলছে। আমরা চাই বিষয়টি ভালো একটি দিকে যাক। বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক অটুট থাকুক। আপনারা জানেন, ইতিপূর্বে হাইকোর্টের দরজাও ভাংচুর করা হয়েছিল। তাদের কিছু হয় নাই। এখানে যেটা হয়েছে, সেটা তাদের গাফেলতির কারণে। আমাদের জন্য নয়। আমাদের তিনটা দাবি সভাপতিকে মুক্তি দেয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দরখাস্ত দেয়া ও যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের কগনিজেন্স পাওয়ার না দেয়া।

সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আইনজীবীরা যদি বিচার না পায়, তাদের বিচার অঙ্গন থেকে ধরে নেয়া হয়। তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ। আজকে যদি কোন ফয়সালা নয় হয়, তাহলে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা হচ্ছে। সেখান থেকে দেয়া কর্মসূচি অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে এগিয়ে যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights