তিস্তার পেটে সরকারি বিদ্যালয়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
শেষ রক্ষা হলো না গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার এলাকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির। নদীভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় এখন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘নতুন করে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুনেছি। প্রতিষ্ঠানটি অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশও দিয়েছি।’ তবে নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো গাফিলতি আছে কি না খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী উত্তর লালচামার এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। নদীভাঙনে ইতোমধ্যে এলাকার দেড় শতাধিক বসতবাড়ি ও তিন শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ে এলাকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি চরবাসীর একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নদীভাঙনে আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করায় বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের আশায় ছিলেন স্থানীয়রা। তবে সেই আশাও শেষ পর্যন্ত হতাশায় পরিণত হয়েছে। এখন নদীভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকালও (সোমবার) ক্লাস হয়েছে স্কুলে। মঙ্গলবার ভোরে শুনলাম এ অবস্থা। সঙ্গে সঙ্গে এটিও স্যারকে জানাই। উনি আসেন। পরামর্শ করে ১৪ জন লেবার (শ্রমিক) লাগিয়ে দিয়েছি। তারা বিদ্যালয়ের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। এরপরও একটি বেড়া ও ৩টি জানালা নদীতে চলে গেছে। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী, এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি ও ইউএনও স্যার সবাই এসেছিলেন। খালি আশ্বাস পেয়েছি। একটা জিও ব্যাগও এ স্কুলের এরিয়ায় ফেলেননি তারা। ফেললে হয়তোবা আজকে এ ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে হতো না।

এদিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আশা করি ঘণ্টাখানেকের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, স্কুল এলাকায় কোনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি এটা ঠিক। তবে গত বছরে ওই স্কুলের আপ এবং ডাউনে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। ওই স্কুল রক্ষায় এবার কোনো জিও ব্যাগ বরাদ্দ হয়নি বলেও জানান এ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights