তুরস্কের মতো সৌদিও কি বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের ওপর থাকা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সৌদি ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে দেশটিকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ইসলামাবাদ।

এই সম্ভাব্য চুক্তিটি সফল হলে পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি যেমন কিছুটা স্বস্তি পাবে, তেমনি সৌদি আরবও তাদের ঋণের টাকা নগদ অর্থের বদলে সামরিক সরঞ্জামের মাধ্যমে উসুল করে নিতে পারবে। তবে এই চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমরবিদদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, সৌদি আরবের মতো বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি দেশ কেন তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং কম শক্তিশালী এই বিমান কিনছে তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।

মূলত চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি সাধারণত কম আয়ের দেশগুলোর কাছে জনপ্রিয়। নাইজেরিয়া, মিয়ানমার এবং আজারবাইজানের মতো দেশগুলো এই বিমান ব্যবহার করলেও সৌদি আরবের বর্তমান বহরে থাকা এফ-১৫ কিংবা ইউরোপীয় টাইফুন বিমানের তুলনায় জেএফ-১৭ প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সৌদি আরব মূলত পাকিস্তানের সাথে তাদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সাম্প্রতিক ‘পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ প্রতিশ্রুতির প্রতিদান হিসেবেই এই পথে হাঁটছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প নিরাপত্তা বলয় তৈরি করাই রিয়াদের লক্ষ্য হতে পারে।

তবে এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের বহুল প্রতীক্ষিত মার্কিন এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান পাওয়ার স্বপ্ন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর আগে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চীনের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।

ওয়াশিংটন সবসময়ই তাদের স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি এমন দেশে দিতে অনিচ্ছুক যেখানে চীন বা রাশিয়ার গোয়েন্দা তৎপরতা বা প্রযুক্তিগত অনুপ্রবেশের ভয় থাকে। সৌদি আরবে চীনা প্রযুক্তির জেএফ-১৭ প্রবেশ করলে পেন্টাগন নিরাপত্তার অজুহাতে এফ-৩৫ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।

এদিকে পাকিস্তান ও সৌদি আরব উভয় দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির বিষয়টি নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাইছে না। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়ে তারা অবগত নয়।

তবে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলমান থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, জেএফ-১৭ এর রেকর্ডও খুব একটা মসৃণ নয়। মিয়ানমার ইতিপূর্বে এই বিমানের কারিগরি ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল। ফলে সৌদি আরবের মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশ শেষ পর্যন্ত এই ‘বাজেট যুদ্ধবিমান’ গ্রহণ করে নিজেদের আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক; উভয়ই ঝুঁকিতে ফেলবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জোর আলোচনা।

সূত্র: ইউরো এশিয়া টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights